ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে মেটার বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে কোম্পানিটি বুধবার তিন ধরনের নতুন স্মার্ট গ্লাস উন্মোচন করেছে। প্রযুক্তি মহলে এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নতুন গ্লাসগুলোতে রয়েছে ছোট্ট লেন্সের ভিতরে স্ক্রিন, যা ব্যবহারকারীরা অ্যাপ চালাতে, ইনস্টাগ্রামে মিডিয়া শেয়ার করতে এবং স্পিকার থেকে গান শুনতে ব্যবহার করতে পারবেন।
মেটা এই গ্লাসগুলো পরিচালনার জন্য একটি রিস্টব্যান্ড প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। রিস্টব্যান্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা গ্লাসের অ্যাপগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এছাড়াও এতে ভয়েস-ভিত্তিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট সংযুক্ত রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর কথা শুনতে ও ক্যামেরার মাধ্যমে পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা রাখে।
উল্লেখযোগ্য হলো নতুন স্মার্ট গ্লাসগুলোর মধ্যে একটি বিদ্যমান রে-ব্যান সানগ্লাসের উন্নত সংস্করণ। এই গ্লাসের নামকরণ করা হয়েছে ‘মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে’। এটি আগের সংস্করণের চেয়ে অনেক বেশি কার্যক্ষম এবং দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন গ্লাসের দাম ধরা হয়েছে ৭৯৯ ডলার, আগের দামের প্রায় দ্বিগুণ। মেটা জানিয়েছে, এটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে।
চার বছর আগে মেটা যখন প্রথম স্মার্ট গ্লাস বাজারে এনেছিল, তখন তা অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করেছিল। লাখ লাখ মানুষ প্রথম সংস্করণটি কিনেছিল। এবার প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় বাজি ধরছে স্মার্ট গ্লাসের ওপর।
সম্মেলনের সময় মেটার কিছু স্মার্ট গ্লাস ডেমোতে সমস্যায় পড়েছে। উদ্বোধনের সময় মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ গ্লাসকে একটি বারবিকিউ সসের রেসিপি দিতে এবং একজন সহকর্মীকে কল করতে বলেন। কিন্তু ডিভাইসটি তা করতে ব্যর্থ হয়। দর্শকরা হেসে ওঠার পর জাকারবার্গ ব্যাখ্যা দেন, “তারা আমাদের লাইভ ডেমো দিতে মানা করেছিল।”
জাকারবার্গ বলেন, “এই গ্লাসগুলো আপনার দেখা ও শোনা অনুযায়ী কাজ করবে। আপনি যা দেখবেন, তা গ্লাসও দেখতে পাবে এবং যা শুনবেন, তা গ্লাসও শুনতে পারবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন গ্লাসগুলো ভারী ভিআর হেডসেটের পরিবর্তে দেখতে একেবারে সাধারণ সানগ্লাসের মতো। এতে সংযুক্ত ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং স্পিকার এতটা সূক্ষ্মভাবে বসানো হয়েছে যে বাইরে থেকে বোঝাই যায় না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর ফলে নতুন স্মার্ট গ্লাসগুলো ভিআর হেডসেটের তুলনায় অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ভিজিবল আলফার গবেষণা প্রধান মেলিসা অটো বলেন, “মেটাভার্স মূলত গেমারদের জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভাবুন তো কত মানুষ প্রতিদিন সানগ্লাস ব্যবহার করে। এই গ্লাসের মাধ্যমে মেটা ভ্যালু অনেকাংশে বাড়াতে পারে।”
নতুন স্মার্ট গ্লাসগুলো প্রযুক্তি ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা দুটোই বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা সহজভাবে সোশ্যাল মিডিয়া, মিউজিক এবং এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের সুবিধা একত্রে উপভোগ করতে পারবেন। মেটার এই উদ্যোগ প্রযুক্তি প্রেমীদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করছে এবং স্মার্ট গ্লাসের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করবে।


