রাজনীতিবিদ ও তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীদের দুর্নীতিকেই দেশের গ্যাস সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফাওজুল কবির খানের মতে, দেশের গ্যাস সংকট একদিনে বা আকস্মিকভাবে তৈরি হয়নি। “এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ এবং তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীরা দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করেছেন, যা আমাদের আজকের এই সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অপ্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি হলেও তা পূরণে প্রয়োজনীয় গ্যাস সংযোগের কথা ভাবা হয়নি। অনেক শিল্পকে গ্যাস দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেওয়া হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে।
উপদেষ্টা গ্যাস এবং বিদ্যুতের সংযোগ ব্যবস্থার পার্থক্যও তুলে ধরেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ এক জায়গা থেকে বন্ধ করে অন্য জায়গায় সরবরাহ করা সম্ভব হলেও গ্যাসে তা করা যায় না। এখানে ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড’ ভিত্তিতে সেবা প্রদান করতে হয়।
সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের দুই ধরনের উদ্যোগ চলমান। একটি হলো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি বাড়ানো এবং অন্যটি হলো স্থলভাগে বাপেক্সের মাধ্যমে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান। ফাওজুল কবির বলেন, “প্রতিবছর যেখানে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমছে, সেখানে নতুনভাবে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। তবে ভোলায় আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি বলেন, শিল্পকারখানা ও রপ্তানি চলমান রাখতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো বাধ্যতামূলক। এদিকে, এলপিজি আমদানি তুলনামূলক সহজ হলেও দাম এখনও বেশি, যা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। ১২ কেজি সিলিন্ডারের বর্তমান দাম ১ হাজার ২০০–১,৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে, যা কমিয়ে এক হাজার টাকার নিচে আনা উচিত।
ফাওজুল কবির আরও জানান, নির্ধারিত দাম না মানার ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তদারকি করা হবে। শিল্পখাতেও এলপিজি ব্যবহারের প্রসার এবং খরচ কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।


