অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান Cortical Labs এই জীবন্ত কম্পিউটারটির নাম দিয়েছে CL1। এটি এমন এক প্রযুক্তি যেখানে জীবন্ত মানব মস্তিষ্কের কোষের সাথে সিলিকন হার্ডওয়্যার যুক্ত করে নতুন ধরনের একটি বুদ্ধিমত্তার পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
কিভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে?
বিজ্ঞানীরা প্রথমে মানবদেহের induced pluripotent stem cells (iPSCs) থেকে নিউরন তৈরি করেন এবং সেগুলোকে একটি সিলিকন চিপে স্থাপন করেন, যেখানে ৫৯টি ইলেকট্রোড ছিল। এই কোষগুলো চিপের সাথে যোগাযোগ করতে শেখে এবং একটি জীবন্ত-ডিজিটাল নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।
এটি কিভাবে কাজ করে?
CL1 একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ পরিবেশে নিউরনগুলোকে জীবিত রাখে। এর ভেতরে থাকা পাম্প ও সেন্সর গ্যাস, তাপমাত্রা ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করে। নিউরনগুলো চিপের মাধ্যমে সিগনাল পাঠায় ও গ্রহণ করে এবং সময়ের সাথে সাথে শিখে ও মানিয়ে নিতে পারে।
কেন এটি বিপ্লবী আবিষ্কার?
এই হাইব্রিড সিস্টেমটি প্রচলিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে অনেক দ্রুত শেখে এবং অনেক কম শক্তি খরচ করে। এর নিউরাল নেটওয়ার্কগুলো প্রাণবন্ত, পরিবর্তনশীল এবং জটিল কাজ মাত্র সামান্য শক্তি ব্যবহার করে করতে পারে।
অন্বেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
CL1 ওষুধ আবিষ্কার, রোগের মডেল তৈরি এবং মস্তিষ্ক অনুপ্রাণিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। গবেষকরা এর মাধ্যমে জানতে পারছেন কিভাবে বাস্তব নিউরন শেখে যা ভবিষ্যতের আরও বুদ্ধিমান, কার্যকর ও মানব-মস্তিষ্কঘনিষ্ঠ প্রযুক্তি তৈরির পথ দেখায়।


