পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সীমান্তে সংঘাতের জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশটির তালেবান সরকারের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগান তালেবান যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারিজমি শনিবার রাতে জানান, আফগান ভূখণ্ডে বারবার পাকিস্তানের সীমানা লঙ্ঘন এবং বিমান হামলার জবাবে তালেবান ‘সফল প্রতিশোধমূলক অভিযান’ চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, অভিযানটি মধ্যরাতে শেষ হয়েছে।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস হবে না। কড়া ও কার্যকরভাবে প্রতিটি উসকানির জবাব দেওয়া হবে।’ তিনি আফগান তালেবানকে সতর্ক করে বলেন, তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে, যা পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
চলতি সপ্তাহে আফগান রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদ ওই হামলার দায় স্বীকার না করে অভিযোগ করেছে, আফগান তালেবান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে। তারা পাকিস্তানে ভারত সহযোগিতায় হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারতের সফরের সময় সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান আফগান তালেবান যোদ্ধারা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সীমান্তে এ সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।


