যুক্তরাষ্ট্রের হামলার একদিন পর ইরানের সরকার পরিবর্তন বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন “সরকার পরিবর্তন টার্মটার ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে সঠিক নয়। কিন্তু যদি ইরানের বর্তমান সরকার ইরানকে আবার মহান করতে অক্ষম হয়, তাহলে কেন সেখানে সরকার পরিবর্তন হবে না?”
রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ট্রাম্পের পোস্টের শেষে ইংরেজি বড় অক্ষরে লেখা ‘এমআইজিএ’-কে ‘মেইক ইরান গ্রেট এগেইন’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ ধরা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি ও তার সমর্থকরা প্রায়ই তাদের স্লোগান ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’-কে সংক্ষিপ্ত করে এমএজিএ বা মাগা বলে থাকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে – ট্রাম্প এমন এক সময়ে ইরানে শাসনব্যবস্থা বদলানোর প্রসঙ্গ তুললেন, যখন ইরানে হামলা নিয়ে তার ‘মাগা’ সমর্থকরা দ্বিধাবিভক্ত; তার প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মকর্তাও ইরানে শাসনব্যবস্থা বদলানোর লক্ষ্য ওয়াশিংটনের নেই বলে বারবার আশ্বস্ত করে যাচ্ছেন।
এর আগে সকালেই তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটে হেগসেথ বলেছিলেন “যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানটি সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে ছিলো না। আমরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শেষ দেখতে চেয়েছি”।
এ মাসের ১৩ তারিখ ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় আচমকা আঘাত হানা ইসরায়েলের নেতারা গত কয়েকদিন ধরে প্রায়ই বলেছেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানে শাসন করে আসা কট্টরপন্থি শিয়া মুসলিম মোল্লাতন্ত্রকে উচ্ছেদ করা।
কিন্তু রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি নির্মূল করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
এর আগে সবশেষ রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকে মানব বিধ্বংসী মারণাস্ত্র আছে, এমন অভিযোগ করে সরকার পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছিলেন। পরে ওই অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হয়েছিলো।
সরকার পরিবর্তন ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকানদের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে রিপাবলিকানদের বড় অংশের মধ্যেই আপত্তি আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বুশ যুগের যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়েছিলেন।


