যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জাপানি গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের শুল্ক কমানোর জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।এই সিদ্ধান্ত জাপানের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, জাপানি গাড়ির ওপর বর্তমান ২৭.৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হবে। এছাড়া অন্যান্য অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্কহারও ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
বাণিজ্য চুক্তির এ পদক্ষেপ জাপানের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টোকিও থেকে আসা শুল্ক বিষয়ক দূত ওয়াশিংটনে এসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জাপানের শীর্ষ সরকারি মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি জানান, তারা এই নির্বাহী আদেশকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং এটি চুক্তির দৃঢ় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই মাসের শেষ দিকে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করলেও বিস্তারিত বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। গত আগস্টে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার সময় জাপানি পণ্যের ওপরও বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক যুক্ত হয়েছিল। জাপানি দূত রয়োসেই আকাজাওয়া আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই নিয়ম সংশোধন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, ৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। এছাড়া সংশোধিত বিধান ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হওয়ার সাত দিনের মধ্যে প্রযোজ্য হবে। ট্রাম্পের আদেশে দেশভিত্তিক শুল্ক ছাড়াও খাত-ভিত্তিক শুল্কও উল্লেখ করা হয়েছে।গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যোগ হয়ে মোট শুল্ককে ২৭.৫ শতাংশে উন্নীত করেছিল। এই উচ্চ শুল্ক জাপানের অটোমোবাইল শিল্পের জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
জাপানি দূত আকাজাওয়া ওয়াশিংটনে বলেন, ১৫ শতাংশ শুল্ক ‘তবুও শিল্পের ক্ষতি করবে’। তিনি উল্লেখ করেন, জাপান সরকার আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আকাজাওয়া ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী জাপানের ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করবেন। ট্রাম্প এই বিনিয়োগ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৯০ শতাংশ মুনাফা রাখবে বলে জানিয়েছেন। তবে জাপান জানিয়েছে, বিনিয়োগের বড় অংশ ঋণ ও ঋণ গ্যারান্টি হিসেবে হবে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে জাপানকে আরও বেশি আমেরিকান চাল আমদানি করতে চাপ দিয়ে আসছেন। এছাড়া ইশিবা জানিয়েছেন যে টোকিও ওয়াশিংটনে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জাপানে আমন্ত্রণ জানিয়ে উভয় দেশের মধ্যে একটি সোনালি যুগ গড়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।


