বিখ্যাত গুপ্তচর তিমি ভালদিমিরকে নরওয়ের উপকূলে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পাঁচ বছর আগে নরওয়ের জলসীমায় প্রথমবারের মতো ভালদিমিরকে দেখা যায়। তখন বেলুগা প্রজাতির তিমিটির সঙ্গে একটি রাশিয়ান গোপন ক্যামেরা লাগানো ছিল। নরওয়ের গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, রুশ সামরিক বাহিনী তিমিটিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে তারা মনে করে – কারণ, তিমিটি মানুষের সঙ্গে মিশতে অভ্যস্ত।
গুপ্তচরবৃত্তিতে পশু-পাখির ব্যবহার নতুন নয় । প্রাচীনকাল থেকেই যুদ্ধের সময় বার্তাবাহক কবুতর ও কুকুরের ব্যবহার হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান শত্রুপক্ষের গতিবিধি জানার জন্য ক্যামেরাবাহী কবুতর ব্যবহার করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ঠান্ডা যুদ্ধের সময় প্রশিক্ষিত কাক ও কবুতর ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তির উদাহরণ আছে।
সিআইএ ৬০ এর দশকে প্রশিক্ষিত বোতলমুখ ডলফিনকে বিপক্ষ জাহাজে হামলা ও নজরদারির কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করে। ২০১৬ সালে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে ইলেকট্রনিক যন্ত্র লাগানো একটি বড় শকুন ব্যবহার করে ইসরাইল নজরদারি চালায় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
পাকিস্তান-ভারত পরস্পরের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কাজে ব্যবহারের অভিযোগে বেশ কিছু কবুতর বিভিন্ন সময়ে আটক করে। ২০২০ সালে পাকিস্তান থেকে আসা পায়ে রিং পরানো একটি কবুতর ভারত আটক করে। ভারতীয় পুলিশের বক্তব্য- রিংটির উপর কোনো কোড লেখা আছে, যার অর্থ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও চীনের হয়ে গোয়েন্দাগিরির সন্দেহে একটি কবুতরকে ৮ মাস আটকে রেখে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। পরে পাখিটিকে বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়।


