Nature জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, লিংকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক দ্রাবক ব্যবহার না করেই বারবার একটি সৌরকোষের সব অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলে। পুনর্ব্যবহৃত সৌরকোষের কার্যকারিতা মূল সৌরকোষের মতোই থাকে। এই সৌরকোষটি পেরোভস্কাইট দিয়ে তৈরি এবং এর প্রধান দ্রাবক হলো পানি। এআই উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক পরিবহনে রূপান্তরের মতো পরিবর্তনগুলোর কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার আগামী বছরগুলোতে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন যেন জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত না করে সে জন্য বিভিন্ন টেকসই জ্বালানি উৎসকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সৌরশক্তিকে দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সিলিকন-ভিত্তিক সৌর প্যানেল ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাজারে রয়েছে। তবে প্রথম প্রজন্মের সিলিকন সৌর প্যানেল এখন তাদের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং একটি অপ্রত্যাশিত সমস্যার সৃষ্টি করেছে। লিংকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিভাগের (IFM) পোেস্টডক্টরাল গবেষক জুন শিয়াও বলেন, “সিলিকন প্যানেলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বর্তমানে কার্যকর কোনো প্রযুক্তি নেই। ফলে পুরোনো সৌর প্যানেলগুলো আবর্জনার স্তূপে চলে যায়। এতে বিশাল পরিমাণে ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হয়, যা ব্যবহার করা সম্ভব নয়,”।
একই বিভাগের অপটোইলেকট্রনিক্সের অধ্যাপক ফেং গাও বলেন, “আমাদের নতুন সৌরকোষ প্রযুক্তি উন্নয়নের সময় পুনর্ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। যদি আমরা জানিই না কীভাবে এগুলো পুনর্ব্যবহার করব, তাহলে এগুলো বাজারে আনা উচিত নয়।” পরবর্তী প্রজন্মের সৌরকোষগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তির একটি হলো পেরোভস্কাইট। এটি তুলনামূলকভাবে কম খরচে সহজে উৎপাদনযোগ্য, হালকা, নমনীয় এবং স্বচ্ছ। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে পেরোভস্কাইট সৌরকোষ বিভিন্ন ধরনের পৃষ্ঠে স্থাপন করা সম্ভব। এমনকি জানালার উপরেও। এ ছাড়া, এটি সূর্যালোকের প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুতে রূপান্তর করতে পারে, যা আধুনিক সিলিকন সৌরকোষের কার্যকারিতার সমান।
পেরোভস্কাইট সৌরকোষের বর্তমান জীবনকাল সিলিকন সৌরকোষের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এর পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়াকে অবশ্যই দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব হতে হবে। পেরোভস্কাইট সৌরকোষে অল্প পরিমাণ সিসা থাকে যা উচ্চ কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার দাবি তোলে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন অংশে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে যে উৎপাদকদের অবশ্যই পুরোনো সৌরকোষ সংগ্রহ এবং টেকসইভাবে পুনর্ব্যবহার করতে হবে। পেরোভস্কাইট সৌরকোষ খুলে ফেলার জন্য ইতিমধ্যে কিছু পদ্ধতি বিদ্যমান। সাধারণত এতে ডাইমিথাইলফর্মামাইড নামে একটি পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এটি রঙের দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বিষাক্ত, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং সম্ভাব্য কার্সিনোজেনিক।
কিন্তু লিংকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এখন এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন যেখানে এই প্রক্রিয়ায় পানি ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে পানির দ্রবণে উচ্চমানের পেরোভস্কাইট পুনরুদ্ধার করা যায়। “আমরা সব কিছু পুনর্ব্যবহার করতে পারিড়আবরণী কাচ, ইলেকট্রোড, পেরোভস্কাইট স্তর এবং চার্জ পরিবহন স্তর,” বলেন জুন শিয়াও। পরবর্তী ধাপে গবেষকরা এই পদ্ধতিকে শিল্পকারখানার জন্য বড় পরিসরে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে চান। দীর্ঘমেয়াদে তারা বিশ্বাস করেন, অবকাঠামো ও সরবরাহ চেইন যথাযথভাবে গড়ে উঠলে পেরোভস্কাইট সৌরকোষ শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


