কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হামাসের শীর্ষ নেতারা শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য দোহায় অবস্থান করছিলেন।এ কারণে ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হামাস।
ইসরায়েলের আইডিএফ ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসএ যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামাসের নেতৃত্বের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করে আসছে। তাই তাদের উপর সুনির্দিষ্টভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে। হামলার আগে নাগরিকদের ক্ষতি কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ছিল লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সতর্কতা, সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহার এবং অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ।
আইডিএফ ও আইএসএ আরও জানিয়েছে, অক্টোবর ৭-এ সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী হামাসকে পরাজিত করতে তারা দৃঢ়তার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে যাবে।
কাতার এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মাজেদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, দোহার এক আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর কয়েকজন সদস্য অবস্থান করছিলেন।তিনি বলেন, এই ধরনের হামলা কাতারে থাকা মানুষদের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। ড. আনসারি আরও বলেন, ‘কাতার এই হামলাকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানায়। দোহা কোনোভাবেই অবিবেচক ইসরায়েলি আচরণ এবং অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে খেলা সহ্য করবে না। কাতারের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইসরায়েলের এই হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার উৎস হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন সুনির্দিষ্ট হামলা কাতার এবং ইসরায়েলের সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুনভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে।


