এশিয়ার চালের বাজারে চলতি সপ্তাহে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বিভিন্ন দেশে চালের মূল্য ওঠানামা করলেও বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার অবস্থান ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ভিয়েতনামে খাদ্যশস্যটির রফতানিমূল্য এই বছরের শুরু থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। সেখানে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল টনপ্রতি ৪৫৫-৪৬০ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে। ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সরবরাহ সীমিত থাকলেও চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।
ভিয়েতনামের বাজারে মূল্য বৃদ্ধির পেছনে ফিলিপাইন সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফিলিপাইন ৬০ দিনের জন্য চাল আমদানি স্থগিত করবে। এই ঘোষণার পরেই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা দিয়েছে। তবে ফিলিপাইন সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের কোনো আপত্তি নেই। সংগঠনটি রফতানিকারকদের টেকসই রফতানি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতে এই সময়ে চালের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চাল টনপ্রতি ৩৭১-৩৭৬ ডলারে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আতপ চালের দাম টনপ্রতি ৩৬৩-৩৬৯ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মুম্বাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, ভারতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিদেশী ক্রেতারা এখানে ক্রয় বাড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের বাজারে দাম কিছুটা কমেছে। ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৩৫৫ ডলারে নেমে এসেছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৬৫-৩৭০ ডলার। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে এ দরপতন হয়েছে। ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ভারত আরও দুই কোটি টন চাল বাজারে ছাড়তে পারে। তাই অনেক ক্রেতা পরবর্তী সময়ে ক্রয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তবে সরবরাহের ক্ষেত্রে অনেক দেশেই পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা স্থিতিশীল থাকলেও গ্রাহকরা কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রয় করছেন। এ কারণে বাজারে মূল্য বৃদ্ধির চাপ বেশি নেই।
এদিকে থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি চলতি বছরে ৭৫ লাখ টন চাল রফতানির লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে। দেশটির সরকার আশা করছে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রেখে রফতানি লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
সার্বিকভাবে এশিয়ার চালের বাজারে ভিন্ন দেশগুলোর পরিস্থিতি এবং নীতি-নির্ধারণমূলক সিদ্ধান্তের প্রভাব স্পষ্ট। ভিয়েতনামে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ফিলিপাইনের আমদানির স্থগিত ঘোষণা, ভারতের স্থিতিশীল মূল্য এবং থাইল্যান্ডের অতিরিক্ত সরবরাহ সব মিলিয়ে বাজারে মিশ্র প্রবণতা তৈরি করেছে।


