গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ হামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একদিনে এত প্রাণহানির ঘটনা চলমান যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ পর্ব বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষে গাজার দুর্দশা ও খাদ্যসংকটের কথা স্বীকার করেছেন। ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ফিলিস্তিনিদের দিকেও নজর দিতে হবে। জানেন তো, গাজায় অনেক মানুষ না খেয়ে আছে। তাই আমাদের উভয় পক্ষকেই দেখতে হবে। ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ভালো কিছু হবে বলে তিনি আশাবাদী।
শুক্রবারের বিমান ও কামান হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল গাজার উত্তরের শহর বেইত লাহিয়া ও জাবালিয়া শরণার্থী শিবির। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালিল আল-দেকরান জানান, এসব এলাকায় রাতভর হামলায় বহু নারী ও শিশুর প্রাণ গেছে।
বেইত লাহিয়ার ওপর প্যারাসুটে করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রচারপত্র ফেলেছে, যেখানে বলা হয়েছে, আপনি যেখানেই থাকুন—তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র বা ভবনে—এলাকা ছেড়ে দক্ষিণে চলে যান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শুক্রবার গাজাজুড়ে ১৫০টির বেশি ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’তে হামলা চালিয়েছে।
৫ মে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, গাজায় জোরালো সামরিক অভিযান চালানো হবে। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পুরো গাজা উপত্যকা দখল ও মানবিক সহায়তার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির কোনও অগ্রগতি ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করেন। তার সফর শেষে এখন ইসরায়েল বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, প্রায় ১০ লাখ গাজাবাসীকে লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত পাঁচ কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
এই প্রতিবেদন তৈরির আগে, একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও এনবিসির কাছে কোনও বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এনবিসির প্রতিবেদনের দাবিগুলো মোটেই সত্য নয়। তিনি বলেছেন, এ ধরনের কোনও পরিকল্পনা কার্যকর করার পরিস্থিতি নেই। বাস্তবতা ভিন্ন। এমন অর্থহীন কোনও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়নি।


