মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।রবিবার (২৩ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। উইটকফ বলেন, আমাদের সবকিছু সামরিকভাবে সমাধান করতে হবে না। আমাদের বার্তা ইরানের প্রতি স্পষ্ট-‘আসুন আলোচনায় বসি এবং কূটনৈতিকভাবে সমাধান খুঁজে বের করি’। যদি তা সম্ভব হয়, আমরা প্রস্তুত। আর যদি না হয়, তাহলে এর বিকল্প খুব একটা ভালো কিছু হবে না।
২০১৮ সালে একতরফাভাবে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এই চুক্তিটি ২০১৫ সালে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যাতে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল এবং বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সরে যাওয়ার পর, ইরান দ্রুত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৬০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা ৯০ শতাংশ মাত্রার এক ধাপ নিচে এবং যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরান পর্যাপ্ত বিভাজনযোগ্য উপাদান সংগ্রহ করেছে যাতে একাধিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনও বোমা তৈরির প্রচেষ্টা চালায়নি।
চলতি বছরে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছেন। বুধবার হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তারা আবারও জানিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই তার পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করতে হবে। এমনকি নিম্ন স্তরের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও বন্ধ করতে হবে। এদিকে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও দুটি সূত্রের বরাতে মার্কিন এক্সিওস পোর্টাল জানিয়েছে–ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে লেখা চিঠিতে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিটি পাঠানোর সময় থেকে বা আলোচনা শুরু হওয়ার সময় থেকে দুই মাসের আল্টিমেটাম শুরু কি না, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু তেহরান যদি ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং সমঝোতা না করে, তাহলে ইরানের পরমাণু স্থাপনার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এরপর জাতিসংঘে ইরানি মিশন এক্স-পোস্টে একটি বিবৃতিতে বলা হয়–আলোচনার উদ্দেশ্য যদি হয় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সম্ভাব্য সামরিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগ নিরসন করা, তাহলে এ ধরনের আলোচনা বিবেচনসাপেক্ষ হতে পারে।
জাতিসংঘে ইরানি মিশন বলেছে, আলোচনার উদ্দেশ্য যদি হয় ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়ে দাবি করা যে, বারাক ওবামা যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তা এখন সম্পন্ন হয়েছে, তাহলে এ ধরনের আলোচনা কখনোই হবে না। ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ রোববার বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্রায়ন ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সব উপাদান ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় তারা বিভিন্ন পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে।


