ইরানি গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান ছিলেন একজন ইসরায়েলি গুপ্তচর- ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। হামলায় নিহত হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর অবস্থান ইসরায়েলকে জানায় ইরানি গুপ্তচর।
ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ দাবি করেছেন যে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি মোকাবেলার দায়িত্বে থাকা ইরানি গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান নিজেই একজন ইসরায়েলি গুপ্তচর ছিলেন। আহমাদিনেজাদ বলে দিলেন যে, ২০২১ সাল নাগাদ স্পষ্ট হয়ে যায় যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা কার্যক্রম প্রতিহত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা একজন মোসাদ এজেন্ট।
‘ইসরায়েল ইরানের ভেতরে জটিল সব অভিযান চালাচ্ছিল। তারা সহজেই স্পর্শকাতর গোপন তথ্য পেয়ে যেত। ইরান এখনও এ বিষয়ে নীরব। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানি ইউনিটের দায়িত্বে থাকা লোকটি ছিল একজন ইসরায়েলি এজেন্ট।’ আহমেদিনেজাদ সিএনএন তুর্ককে বলেছেন।আহমাদিনেজাদ দাবি করেছেন যে এটি বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা কার্যক্রমের উপর নজর রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আরও কমপক্ষে ২০ জন ইরানি ইসরায়েলের মোসাদের জন্যে কাজ করত।
আহমাদিনেজাদ’র মতে, এই ডাবল এজেন্টরা ইসরায়েলের কাছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অতিসংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছে।এরাই ২০১৮ সালে ইরানের পরমানু কর্মসূচির ডকুমেন্ট চুরি করে এবং বেশ কয়েকজন ইরানী পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করে। বৈরুতে হিজবুল্লাহ সদর দফতরে বিমান হামলায় নিহত হওয়ার আগে ইরানি গুপ্তচর হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে খবর দিয়েছিল এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার সময়টাতেই আহমাদিনেজাদ এই বোমা ফাটালেন।
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার একজন কড়া সমালোচক, আহমাদিনেজাদ এর মন্তব্য ইরানের সাবেক গোয়েন্দা মন্ত্রী আলি ইউনেসির দাবিরই প্রতিধ্বনি – ইসরায়েলি গুপ্তচররা ইরানি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার শীর্ষস্তরে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছিল।
‘মোসাদ গত ১০ বছরে অনেকগুলি সরকারী বিভাগে এমনভাবে অনুপ্রবেশ করেছে যে দেশের সমস্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের তাদের জীবন নিয়েই ভীত হওয়া উচিত।’ ইউনেসি ২০২১ সালে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন।


