মিসরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পরোক্ষ আলোচনার প্রথম দিনটি ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে। আল–জাজিরা ও অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গাজায় চলমান যুদ্ধ অবসান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনায় সমঝোতার আশার সূচনা হয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বোমা হামলা বন্দীদের মুক্তি সংক্রান্ত আলোচনাকে জটিল করে তুলছে। আলোচনায় বন্দিবিনিময়, যুদ্ধবিরতি ও গাজায় মানবিক সহায়তা প্রদান ইস্যু হিসেবে প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে।
এ বছর ইসরায়েলে হামাসের হামলা এবং তার জবাবে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,১৩৯ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করা হয়। আলোচনায় হামাসের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দুই নেতা খলিল আল-হায়া ও জাহের জাবারিন। এই দুই আলোচক গত মাসে দোহায় ইসরায়েলের হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, যেখানে পাঁচজন নিহত হন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প দ্রুত ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বন্দিবিনিময়ের প্রক্রিয়াটি শেষ করতে চান। এ মাধ্যমে গাজায় যুদ্ধ অবসানে তার পরিকল্পনার অন্যান্য অংশগুলো কার্যকর করার চেষ্টা হবে।
গতকাল বিকেলে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের চুক্তি করার ভালো সুযোগ আছে। কিছু বিষয় নিয়ে সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে, তবে আমরা ভালো করছি। হামাস এমন কিছু বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্টিভ উইটকফ। এছাড়াও ট্রাম্পের জামাতা ও ব্যবসায়ী জ্যারেড কুশনারও প্রতিনিধিদলের অংশ। ট্রাম্প হামাসকে আলোচনায় রাখার জন্য যৌথ আরব-তুর্কি সমর্থনের প্রশংসা করেছেন এবং ইসরায়েলের জনগণকে ও নিজস্ব প্রতিনিধিদের প্রশংসা জানিয়েছেন। এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


