আজকের জটিল পৃথিবীতে আমরা সন্তানদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে নানা উপায় খুঁজে থাকি সুষম খাবার, মানসিক বিকাশের খেলনা, বা উন্নত শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম। কিন্তু গবেষণা বলছে, একটি সাধারণ বিষয়ই সন্তানের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, সেটি হলো একটি আলিঙ্গন (hug)।
একটি উষ্ণ আলিঙ্গন শিশুর মনে নিরাপত্তা, ভালোবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতার বার্তা পৌঁছে দেয়। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত, আলিঙ্গনের সময় শরীরে ফিল-গুড হরমোন যেমন অক্সিটোসিন, সেরোটোনিন ও ডোপামিন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনগুলো শিশুকে শান্ত করে, আনন্দ দেয় এবং পারিবারিক সংযোগকে মজবুত করে তোলে।
অক্সিটোসিনকে প্রায়শই ভালোবাসার হরমোন বলা হয়। এটি মস্তিষ্কে উষ্ণতা ও বিশ্বাসের অনুভূতি জাগায়। অন্যদিকে, সেরোটোনিন ও ডোপামিন সুখ এবং তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে, যা শিশুকে একদিকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখে, অন্যদিকে মনোযোগী ও ইতিবাচক থাকতে সাহায্য করে।
আলিঙ্গনের আরেকটি শক্তিশালী প্রভাব হলো কর্টিসল হ্রাস। কর্টিসল হলো শরীরের স্ট্রেস হরমোন, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের উদ্বেগ, ক্লান্তি এমনকি ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়ার কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, আলিঙ্গন কর্টিসলের মাত্রা কমিয়ে শিশুদের মনকে শান্ত রাখে।
শুধু মানসিক নয়, আলিঙ্গন শারীরিক সুস্থতাতেও সহায়ক। বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, নিয়মিত আলিঙ্গন শিশুর ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। কারণ আলিঙ্গনের মাধ্যমে নিঃসৃত সেরোটোনিন দেহে বিষণ্ণতা কমায়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। এর ফলে শিশু দ্রুত অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠে এবং দিনভর উজ্জীবিত থাকে।
বাচ্চারা যখন কোনো দ্বন্দ্ব বা দুঃখজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, তখন একটি আলিঙ্গন তাদের পুনরায় স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। এ নিরাপদ আশ্বাস শিশুকে দ্রুত মানসিক ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনে। গবেষণা বলছে, এমন ইতিবাচক অনুভূতি শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণ, একাগ্রতা ও সামাজিক আচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।


