ওমানে রোববার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা শেষ হয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে প্রকাশ্য অচলাবস্থায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলেও উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আরও আলোচনার ঘোষণা দিয়েছে। আগের তিন দফায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছিল উভয় পক্ষ। রোববার ইরান বলেছে, আলোচনাটি ছিল ‘কঠিন কিন্তু ফলপ্রসূ’। অন্যদিকে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন ‘আজকের ফলাফলে উৎসাহিত’। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এ আলোচনার এটি ছিল চতুর্থ রাউন্ড, যা ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংলাপ হিসেবে বিবেচিত।
আলোচনার পর ইরানের প্রধান আলোচক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ চালু থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপোসের সুযোগ নেই। তবে তিনি ইরানি টেলিভিশনে বলেন, ‘বিশ্বাস গড়ার লক্ষ্যে সমৃদ্ধিকরণের হার কমানো নিয়ে আমরা নমনীয়তা দেখাতে পারি।’ ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে—২০১৫ সালের চুক্তির ৩.৬৭ শতাংশ সীমা অনেক পেরিয়ে গেছে, তবে এখনো ৯০ শতাংশ অস্ত্র-গ্রেড মাত্রার নিচে রয়েছে।
ওয়াশিংটনের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে হবে।’ যদিও প্রথমে তিনি বেসামরিক কাজে কম মাত্রার সমৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এই আলোচনার মধ্যেই অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাবেন, আর আরাকচি এর আগেই সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষ করেছেন।
তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনার বিরোধিতা করে ইসরাইল বলছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, ‘ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রাষ্ট্র… এই শাসনব্যবস্থার হাতে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র দেওয়া যাবে না।’ উল্লেখ্য, ইসরাইলই মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র (যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়) পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।


