ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুটি সেতু মেঘনা ও মেঘনা-গোমতীর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তিন দশক আগে চালু হওয়া এই সেতু দুটি থেকে সরকার গত আগস্ট পর্যন্ত টোল বাবদ আয় করেছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এত আয়ের পরও টোল থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, দেশের এরকম ২৬টি সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের বহুগুণ উঠে গেলেও সেগুলোর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর টোল আদায় চলছেই। টোলের কারণে যানবাহনের ভাড়া বেশি পড়ে এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। টোল অনেকটা পরোক্ষ করের মতো, যা গরিবের কাছ থেকে ধনীদের সমান হারে আদায় করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার ধনী ও সচ্ছলদের কাছ থেকে যথেষ্ট পরিমাণে আয়করের মতো প্রত্যক্ষ কর আদায় করতে পারেনি। অন্যদিকে বিপুল ব্যয় ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ নানা প্রকল্প নিয়ে সরকারের খরচ বাড়িয়ে সেই ব্যয় মেটাতে চাপ তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, জ্বালানি ও সারের দাম এবং সেতুর টোল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩ এ সম্ভাব্য সব সড়ক থেকে টোল আদায়ের জন্যও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৪ সালে ২০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সব সেতুতে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। সেতুর ইজারা পান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
অভিযোগ রয়েছে, টোল আদায় করে ঠিকাদারেরা নিজেরা বেশি লাভবান হয়েছেন। এ কারণে বহু বছর আগে নির্মিত ও তুলনামূলক ছোট সেতু থেকেও টোল আদায় চলছে। সারা দেশে সওজের অধীনে থাকা ৬৭টি মাঝারি ও বড় সেতু থেকে টোল আদায় করা হয়। বর্তমানে টোল বাবদ সওজ আয় করে এক হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ঠিকাদার বা ইজারাদারের পেছনে খরচ গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণে যে খরচ হয়, তা মেটানোর জন্যই সরকার টোল আদায় করে থাকে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও আয়ের সামঞ্জস্য কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়।


