২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় রাজনৈতিক দোদুল্যমানতার অবসান

৫ আগস্ট, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ রমজানের আগেই সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ভাষণকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন অনেকেই, বিশেষত নির্বাচন নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা ও সংশয় দূর হয়েছে বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত।

ড. ইউনূস জানান, নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত চিঠি দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানো হবে। তিনি বলেন, “বহু বছর আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি।এবার সবাই ভোট দেবে, কেউ বাদ যাবে না।” এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি অতীতের ভোটবঞ্চিত সময়ের ক্ষতকে স্মরণ করিয়ে দেন এবং ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি জাতিকে বলেন, “ভোট দেয়ার আগ মুহূর্তে যেন মনে করি, যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে এ অধিকার ফিরে পেয়েছি, তাদের চেহারা চোখে ভেসে উঠুক।” একইসঙ্গে তিনি ভোটারদের নিজেদের নির্বাচনী এলাকা ঘন ঘন পরিদর্শনের পরামর্শ দেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে সরকারের তিনটি মূল দায়িত্ব সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। জানান এই তিনটির মধ্যে প্রথম দুটি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, এটি ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যাতে কোনো সরকার যেন আর ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “রাষ্ট্রকে এমনভাবে মেরামত করতে হবে যাতে কোথাও ফ্যাসিবাদের লক্ষণ দেখলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা নির্মূল করা যায়।”

নির্বাচনকে উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে একটি ‘ঐতিহাসিক’ পর্ব হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস। নারীদের জন্য নিরাপদ ভোটকেন্দ্র, প্রবাসীদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি সর্বজনীন অংশগ্রহণের নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ভাষণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগর আমাদের দেশের মূল্যবান অংশ। এই অঞ্চলকে আমরা অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করব।” চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকীকরণ, ড্রাইডক লিমিটেডের ভূমিকা এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনও তুলে ধরেন তিনি।

ড. ইউনূসের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এ ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হবে। সব মিলিয়ে ড. ইউনূসের ভাষণ শুধু একটি নির্বাচনের সময়সূচিই ঘোষণা করেনি, বরং একটি নতুন বাংলাদেশের অভিমুখে যাত্রার দিকনির্দেশনাও দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন