দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রচুর অপ্রয়োজনীয় ব্যয় করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বুধবার ঢাকায় ‘কনডাক্টিভ অটোমাবাইল পলিসি ফর গ্রিন গ্রোথ অ্যান্ড এন্ড কম্পিটিটিভ ইকোনমি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি বলেন — ‘বিগত ১৬ বছরে আমরা এমন সব ফ্যালাসি (প্রতারণামূলক) বিনিয়োগ করেছি, সেটা কর্ণফুলী টানেল হোক বা অন্য কিছু। এমন উচ্চমূল্যের বিনিয়োগ করেছি যে ঋণের নামে এক টাকার জিনিসই ২০ টাকায় করেছি।’
তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগ করতে গিয়ে আমরা তো পরিবেশের আরও বড় ক্ষতি করে ফেলেছি। এসব উন্নয়ন করতে গিয়ে আমরা বিপুল অর্থনৈতিক দায় তৈরি করেছি। এখন আমাদের জাতীয় ব্যয়ে সর্ব বৃহৎ খাত হিসেবে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটা তো টেকসই নয়। দীর্ঘ মেয়াদে তো এটা চলনশীল নয়। এখান থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, আমার মন্ত্রণালয়ে আমি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাদ দিচ্ছি। যেসব প্রকল্প ৭০-৮০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে, সেগুলো নিয়ে ঝামেলায় পড়েছি। এসব প্রকল্প অব্যাহত রাখলে বিপদ, আবার কাজ বন্ধ করলেও বিপদ। তবে আমরা উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই। অপ্রয়োজনীয় এবং রিটার্নহীন প্রকল্প বাদ দিতে চাই ।
এ সময় উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এ দেশের ভোগ্যপণের বাজার ১৫০ বিলিয়ন ডলারের। বছরে ১০ কোটি টন খাদ্য আমদানি হয় বিদেশ থেকে। কিন্তু এগুলোর জন্য আমাদের লজিস্টিক নেই। বাংলাদেশের আমাদের লজিস্টিক খরচ সবচেয়ে বেশি, যা উন্নত বিশ্বে যে কোনো দেশের চেয়েও বেশি।’
তিনি বলেন, ‘দেশের সব গঞ্জ দিয়ে নাম করা এলাকাগুলো একসময় লজিস্টিক হাব ছিল। কিন্তু সেগুলো বিকল হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সম্পদ ছিল সেগুলো। এ দেশে ২০০ নদী আছে লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার। সেগুলো ব্যবহার করতে পারলে অসম্ভব সুন্দর ভবিষ্যত আসবে আমাদের।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকগুলোর মধ্যে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত রয়েছে। এসব খাতের প্রাথমিক এনাবলার হচ্ছে লজিস্টিক সাপোর্ট। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইউটিলিটি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস এবং শ্রমশক্তির উৎপাদন ক্ষমতা।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ১৭/১৮ কোটি জনসংখ্যা রয়েছে, যদিও খনিজ সম্পদ তেমন নেই। তবে রয়েছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড—একটি ভাইব্রেন্ট ও প্রোডাক্টিভ জনগোষ্ঠী। এই শ্রমশক্তিকে দক্ষভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে।”


