‘… আরও অবাক লাগে, অনেকে এ সুযোগে বাল্যবিয়ের যৌক্তিকতাও হাজির করছেন। পরিবার, সমাজ ও বর্তমান সময়ের জটিল বাস্তবতায় তাঁরা সন্তান লালনপালন ও শিশুর বেড়ে ওঠায় নানা সংকটের সমাধান খুঁজছেন শুধু বিয়ের মাধ্যমে। বিয়ে যেন শিশুর পুতুল খেলা!ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ১১ বছরের একটি মেয়ে, বাচ্চা মেয়েই তো। এখনকার বাচ্চারা অনেক কিছুই বুঝে, কিন্তু পরিবার-সমাজ বা দুনিয়ার বাস্তবতা এবং প্রেম বা নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে কতটুকুই বা বোঝাপড়া থাকার কথা তার?
আর কৈশোর বা বয়ঃসন্ধির এই সময় যেকোনো বাচ্চার জন্য জটিল। এই বয়সেই তো বাচ্চারা ভুল করে। হাসতে খেলতে বা অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে, তার বিপদ সম্পর্কে বুঝে উঠতে পারে না। মেয়েটির ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছে বলতেই হয়।অন্যদিকে মায়ের দুরারোগ্য ব্যাধি, পরিবারের ওপর ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এমন বাচ্চার প্রতি খেয়াল রাখার সুযোগই-বা কোথায়! তখন তো এমন অঘটন ঘটা একেবারেই অস্বাভাবিক না। মেয়েটি নিরাপদে ফিরে এসেছে, এটিই তো বড় আনন্দের বিষয় হওয়ার কথা। কিন্তু না, অনেক মানুষ তাকে নিয়ে বসিয়ে ফেলেছে সোশ্যাল ট্রায়াল। করছে ট্রল, বানাচ্ছে মিম। শুধু তাই নয়, নোংরা ও কুশ্রী ভাষায় তাকে আক্রমণও করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম থেকে এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে, ওই কথিত প্রেমিক একজন তরুণ মানে প্রাপ্তবয়স্ক। তাহলে তো আইন ও সমাজের চোখে সেই এখানে একমাত্র দোষী বা অপরাধী হতে পারে। কারণ, এই বয়সে কোনো বাচ্চা নিজের কনসেন্ট বা সম্মতিতে এমন কাণ্ড করতে পারে না। পরিবারও সে সম্মতি দেবে না, কখনো দেয় না। ফলে কারও ইন্ধন, ফুসলানো, ফাঁদে ফেলা বা প্রতারণার বিষয়টিই এখানে বরং প্রাধান্য পায়। অথচ মেয়েটির তুলনায় বরং সেই তরুণের অপরাধ নিয়েই বরং বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
এটিও বলতে হয়, মেয়েটিকে উদ্ধার করার সময় আমাদের কিছু সংবাদমাধ্যমকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ, তার বক্তব্য নেওয়ার বিষয়ে যেভাবে উদ্গ্রীব দেখা গেল, তা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। শিশু বা অল্পবয়সীদের বিষয়ে সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়েও উঠেছে প্রশ্ন। … মেয়েটি নিশ্চয়ই তার ভুল বুঝতে পারছে বা পারবে। তবে বড় ধরনের মানসিক বিপর্যস্ততার মধ্য দিয়েই তাকে যেতে হয়েছে এবং যেতে হবে। আসুন আমরা তাকে বাঁচতে দিই। সামনে গোটা জীবনটা, গোটা পৃথিবীটাই তো পড়ে আছে তার জন্য। নতুন করে সে তার নিজের পৃথিবী গুছিয়ে নিক।…’


