বিশ্ববিখ্যাত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন তাদের গুদামগুলোতে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয়তার নতুন এক মাইলফলকে পৌঁছেছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, জাপানের একটি গুদামে আমাজন সম্প্রতি তাদের ১০ লাখতম রোবট ব্যবহার শুরু করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিগগিরই গুদামগুলোতে মানুষের সমানসংখ্যক রোবট কাজ করতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় অগ্রগতি হলেও কর্মীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
২০২১ সালে আমাজনের গুদামে ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার রোবট। সেখান থেকে মাত্র চার বছরে সংখ্যাটি প্রায় তিনগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখে। প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি নতুন রোবট যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
শুরুতে আমাজনের রোবটগুলো দেখতে ছিল ঘর পরিষ্কার করার রুমবার রোবটের মতো, যেগুলো উঠিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেত। তবে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি মানুষের মতো দেখতে (হিউম্যানয়েড) রোবট চালু করে।
শুধু গুদামে নয়, আমাজন এখন ‘লাস্ট মাইল ডেলিভারি’ বা ডেলিভারির শেষ ধাপেও রোবট ব্যবহারের চেষ্টা করছে। এতে তাদের পুরো ডেলিভারি চেইনে রোবটের প্রভাব আরও বাড়বে।
রোবট ব্যবহারের কারণে প্রতিটি গুদামে কর্মীসংখ্যা গড়ে মাত্র ৬৭০, যা গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৫ সালে যেখানে প্রতিজন কর্মী গড়ে ১৭৫টি প্যাকেজ হ্যান্ডেল করতেন, এখন সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৭০-এ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রোবট ব্যবহারে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজন বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারবে। তবে এতে মানবকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমাজন জানায়, ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তারা ৭ লাখের বেশি কর্মীকে নতুন প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মতে, রোবট আসার ফলে নতুন ধরনের কাজের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
তবে কিছু চাকরি হারানো অনিবার্য হয়ে উঠছে। এমনকি আমাজনের করপোরেট কর্মীদেরও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি। তার মতে, আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) করপোরেট পর্যায়েও কিছু চাকরি কেড়ে নেবে।


