আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৮ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটা ম্যানুফ্যাকচারিং হাবের মতো গড়তে চাই, ফ্যাক্টরি বানাতে চাই। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। তারা অর্থনীতির জন্য সম্পদ। তাদের ব্যবসায়ী বানানোর জন্য বিনিয়োগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নকে সাকসেস করতে হলে চট্টগ্রামকে সাকসেস করতে হবে। শিল্পের ৩০-৪০ শতাংশ চট্টগ্রাম থেকে আসে। আমাদের বড় ইকোনমিক জোনগুলো চট্টগ্রামে। বিশেষ করে বড় বড় ইনিশিয়েটিভস, চায়না স্পেশাল ইকোনোমিক জোন হচ্ছে, মীরসরাই ইকোনোমিক জোন রয়েছে। আমরা একটি ফ্রি ট্রেড জোনের কথা বলছি, সেটাও চট্টগ্রামকে ঘিরে। সবগুলোর নেপথ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের বন্দরগুলো। বন্দরগুলোকে সাকসেস করতে না পারলে সবগুলো বিনিয়োগই লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে। বিনিয়োগকারীদের লজিস্টিক নিশ্চিত করতে হলে বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।
আশিক চৌধুরী বলেন, বিশ্বে বন্দর অপারেশনও একটি বড় ইন্ডাস্ট্রি। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আমাদের লোকজন দিয়ে বৈশ্বিক বন্দর অপারেশন করা। বিশ্বের বন্দরগুলো টেকনোলজিতে অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের বন্দর সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমাদের বন্দরে যে অপারেটর রয়েছেন, শ্রমিক রয়েছেন, তাদের দক্ষ করতে হবে। তারাও যেন বিদেশি পোর্ট অপারেটরদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
ভিয়েতনামের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সক্ষমতার দিক থেকে আমরা ভিয়েতনামের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবো না। ভিয়েতনামে ৪৪টি বন্দর রয়েছে। তাদের হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বছরে ৪৭ মিলিয়ন টিইইউস। কিন্তু আমাদের এখন হচ্ছে ১ পয়েন্ট ২৯ মিলিয়ন টিইইউস। সেগুলো আমাদের নির্মাণাধীন সবগুলো পোর্টকে অ্যাকটিভ করলেও হবে ৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন টিইইউস। এজন্য আমাদের বন্দরকে ইফিসিয়েন্ট করার বিকল্প নেই।


