নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার কাশিপুরের মধ্য নরসিংহপুর গ্রামে ‘মুক্তিধাম আশ্রম ও লালন একাডেমি’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মহতী সাধু সঙ্গ ও লালন মেলা’ আয়োজনের অনুমতি বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। নিরাপত্তার কারণ এবং স্থানীয় হেফাজত নেতাদের আপত্তির জেরে এই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক বলেন, ‘এই মেলা বন্ধের জন্য স্থানীয় হেফাজতের নেতারা দাবি জানিয়েছেন। মেলার অনুমতি দেওয়া হলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় আমরা লালন মেলার অনুমতি দেইনি।’
এর আগে, ১৫ নভেম্বর হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা এই মেলাকে ইমান বিধ্বংসী আখ্যা দিয়ে মেলা বন্ধে মিছিল করে। পরে মুক্তিধাম আশ্রমের অদূরে জড়ো হয়ে সেখানে বক্তব্য দেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল। হেফাজত নেতা আব্দুল আউয়ালের হুমকির প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে মানববন্ধনে সাংস্কৃতিক জোটের রফিউর রাব্বী বলেন, ‘প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের মতপ্রকাশ, ধর্ম পালন এবং শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। নির্বিঘ্নে লালন মেলা আয়োজনের জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের কাজ করতে হবে। সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের বসবাস এই দেশে। নিজের মত আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তার কণ্ঠরোধ করা শুধু ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধেই নয়, এটি আমাদের সংবিধানেরও বিরোধিতা।’
মুক্তিধাম আশ্রম ও লালন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ফকির শাহ জালাল বলেন, ‘১০ বছর আগে আমার জমিতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করি। সাত বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লালন ভক্তরা এখানে আসেন। আমরা তো কারও বিরুদ্ধে কিছু বলি না। আমাদের মতো করে সাঁইজির গান চর্চা করি, ভক্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করি। এমন পরিস্থিতি আগে কখনো হয়নি। এলাকার মানুষও বাধা দেয়নি। কিন্তু এবার তৌহিদি জনতা বলছে মেলা বন্ধ না করলে সব ভেঙে ফেলবে।’


