বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে উপস্থিত থাকুন বা না থাকুন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “বিচার অবশ্যই হবে। শুধু তিনি নন, তার সঙ্গে যারা জড়িত, তার পরিবারের সদস্য, তার সহযোগী ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও বিচারের আওতায় আসবেন।”স্কাই নিউজ লিখেছে- গোপন বন্দিশিবিরের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, যেখানে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা, নির্যাতন, গুম ও হত্যার মত ঘটনা ঘটত বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘আয়নাঘর’ নামে কুখ্যাতি পাওয়া শেখ হাসিনার আমলের কয়েকটি বন্দিশালা সম্প্রতি ঘুরে দেখার কথাও সাক্ষাৎকারে বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তার ভাষায়, সেখানে তিনি যা দেখেছেন, তাতে শিউরে উঠেছেন।সেসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে সময় লাগছে জানিয়ে ইউনূস সাক্ষাৎকারে বলেন, “এতে সবাই জড়িত ছিল। পুরো সরকারই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই কারা নিজেদের আগ্রহে এটা করেছে, কারা সরকারের আদেশে এটা করেছে, আর কারা বাধ্য হয়ে করেছেড় এটা নির্ধারণ করা কঠিন।”স্কাই নিউজ লিখেছে- আন্দোলনে হতাহতদের পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেই প্রত্যাশার চাপ রয়েছে অধ্যাপক ইউনূসের ওপর। অন্তর্বর্তী সরকার থাকতে থাকতেই যাতে সেই বিচার করা যায়, সেই চেষ্টা ইউনূস করছেন।
তার ভাষায়, “কিছু অপরাধীর বিচার হবে, কিছু বিচারের প্রক্রিয়ায় থাকবে, আর কেউ কেউ হয়ত ধরাছেয়ার বাইরেই থেকে যাবে।”স্কাই নিউজের রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে দেশের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূসকে নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনার আমলের দুর্নীতির তদন্তও রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাদের মধ্যে ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও আছেন, যিনি শেখ হাসিনার ভাগ্নি।ইউনূস সাক্ষাৎকারে বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘গুরুতর’। দেশে তার ‘বিপুল সম্পদসহ সবকিছুই’ খতিয়ে দেখা হবে।


