স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার বছরের পর বছর বরাদ্দ কম দিয়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলে আসছেন। গত এক দশকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জাতীয় বাজেটের গড়ে ৫% বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্যে। অন্যদিকে জিডিপির অংশ ২% কখনো ছাড়ায়নি। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন মনে করে, স্বাস্থ্যে জিডিপির অন্তত ৫% এবং জাতীয় বাজেটের ১৫% বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী যেসব দেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে এগিয়ে আছে, তারা স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বা তার বেশি ব্যয় করছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে সেবা বিস্তৃত হবে, ব্যক্তিগত ব্যয় কমবে, জনগণের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামো, জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বা সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় স্বাস্থ্য খাত নেই। বিগত ১৫ বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরাদ্দের দিক থেকে স্বাস্থ্য এখনো নিচের দিকে—৮ নম্বরে। এগিয়ে থাকা অন্য খাতগুলো হচ্ছে জনপ্রশান, শিক্ষা, পরিবহন ও যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ।
‘স্বাস্থ্য অর্থায়ন সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নসহ প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতে টেকসই অর্থায়নের ব্যাপারে ৩৩টি সুপারিশ করা হয়েছে। তামাক, চিনিযুক্ত পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, বুকের দুধের বিকল্প পণ্য, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার বা এই ধরনের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করতে হবে এবং কর থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ স্বাস্থ্যের জন্য নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল পণ্যের ওপর কর চালু বা কর বাড়িয়ে অর্জিত আয়ের একটি অংশ স্বাস্থ্যের জন্য রাখতে হবে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা তহবিল, স্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রবাসী বন্ড চালু, সামাজিক বিমা চালুর কথা সুপারিশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ক্রয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়িয়ে অর্থের সাশ্রয় করার কথা বলা আছে।
প্রতিবেদনে বলা আছে — যারা অতি দরিদ্র, তারা যেকোনো কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে সব ধরনের সেবা পাবেন। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ১০% দরিদ্র রোগীকে বিনা মূল্যে অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ পরিষেবা, ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা দিতে হবে। ১০% দরিদ্র রোগীকে একই সেবা বিনা মূল্যে দেবে বেসরকারি হাসপাতাল। তবে প্রতিবেদনে এ কথাও বলা আছে যে এটি নতুন কোনো শর্ত নয়। এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্ত, যা রাজনৈতিক ও অন্য কোনো কারণে অতীতে বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে — দুর্নীতি, সক্ষমতার ঘাটতি, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং চিকিৎসাশিক্ষার নিম্নমান ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। দেশের স্বাস্থ্য খাত আজ জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি।


