স্পর্শের বিপদ , আপনার শিশুকে কি জানাবেন ? কিভাবে জানাবেন ?

শিশুরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি তাদের শৈশবের আনন্দ ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই শিশুকে ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে নিজের শরীর সম্পর্কে ধারণা দেওয়া
শিশুকে তার শরীর সম্পর্কে সচেতন করে তোলা দরকার। তাকে বোঝানো উচিত তার শরীর সম্পূর্ণরূপে তার নিজস্ব এবং সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে কে তাকে স্পর্শ করতে পারবে বা পারবে না। দেহের প্রতিটি অ্যানাটমিক্যাল অংশের সঠিক নাম শেখানো হলে, সে এসব অংশ নিয়ে বিব্রত হবে না এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের ক্ষেত্রে তা নির্ভুলভাবে জানাতে পারবে।

ভালো ও মন্দ স্পর্শের পার্থক্য শেখানো
শিশুকে ভালো বা নিরাপদ স্পর্শ ও মন্দ বা অনিরাপদ স্পর্শের পার্থক্য বোঝানো জরুরি। ভালো স্পর্শ হলো সেই স্পর্শ যা শিশুকে আনন্দ ও নিরাপত্তা দেয়, যেমন জড়িয়ে ধরা বা হাত ধরা। অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ হলো সেই স্পর্শ শিশুর শরীরের ব্যক্তিগত অংশে অযাচিতভাবে করা হয়। শিশুরা অস্বস্তি ও ভয় পেতে পারে। লাইফটাইম ট্রমাও ঢুকে যেতে পারে। এই সচেতনতাগুলো থাকলে শিশুরা সহজেই বুঝতে পারবে কোন স্পর্শ নিরাপদ এবং কোনটি ক্ষতিকর।

অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শে শিশুর করণীয়
যদি কোনো শিশু অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের সম্মুখীন হয়, তবে তাকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে শেখানো উচিত। শিশুকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে পরিচিত বা অপরিচিত, আত্মীয় বা বন্ধুড়যে-ই হোক না কেন, যদি কোনো আদর বা স্পর্শ তাকে অস্বস্তিকর মনে হয় তবে সে সঙ্গে সঙ্গে না বলবে এবং সেখান থেকে সরে আসবে। শিশুকে শেখানো দরকার এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সে তা অবিলম্বে অভিভাবক বা কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে জানাবে। এভাবে শিশুর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং সে তার নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতন হবে।

শিশুর অভিযোগের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া
যদি কোনো শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ করে, তবে তার কথা সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। শিশুকে অবিশ্বাস করা বা অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। তাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সে একা নয়, তার অভিভাবক সবসময় তার পাশে আছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নির্যাতনের ঘটনাগুলো পরিচিতজন বা আত্মীয়দের দ্বারা ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা নির্যাতিত হয় তাদের পরিচিত বা বিশ্বস্ত কারো দ্বারা। তাই এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা না করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিশুদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে এবং যেকোনো নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ‘থিংক আনথিংকেবল’ নীতিতে চলতে হবে, কারণ নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো কিছু অবহেলা করা উচিত নয়। আমাদের সচেতনতা ও যথাযথ উদ্যোগই পারে শিশুদের সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।





LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন