ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক অভিযানের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা। ধাপে ধাপে স্থল অভিযানের মাত্রা বাড়ানোর মূল লক্ষ্য গাজাকে পুরোপুরি দখলে নেয়া। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে হাজার হাজার সংরক্ষিত সেনাসদস্যকে তলব করেছে ইসরায়েল। সোমবার ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেছেন — অনুমোদন পাওয়া পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে গাজা উপত্যকা দখল, সেখানে দখল করা এলাকাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গাজার বাসিন্দাদের উপত্যকার দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়া। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে হারেৎজ পত্রিকা জানিয়েছে, সম্প্রসারিত অভিযানটি আগের অভিযানের মতো হবে না। আগের আক্রমণ-ভিত্তিক অভিযানের বদলে এবার ভূখণ্ড দখলের অভিযান চালানো হবে এবং গাজায় ইসরায়েলের স্থায়ী উপস্থিতিও বজায় রাখা হবে।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখল এবং সেখানকার ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র স্থানান্তর করার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েল বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এটিকে ইসরায়েল ‘‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’’ বলে অভিহিত করেছে। এএফপির এক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই পরিকল্পনাকেই এগিয়ে নিচ্ছেন, যেখানে গাজার ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা একটি বিতর্কিত সহায়তা সরবরাহ পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে। এর আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানো হবে। এসব সংস্থাকে বাইরের নিরাপত্তা দেবে ইসরায়েলি সেনারা।
তাঁদের লক্ষ্য হামাসের কোনো ‘নিয়ন্ত্রণ’ ছাড়াই যেন এ ত্রাণ গাজাবাসীর কাছে সরবরাহ করা যায়। কারণ, ত্রাণ কার্যক্রমগুলো গাজায় হামাসের শাসনকে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করে ইসরায়েল।
এটি কার্যকর হলে যদিও দুই মাস ধরে চলা অবরোধের অবসান ঘটবে; তবে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থাগুলো এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং এ ধরনের ত্রাণ বিতরণে তারা অংশ নেবে না। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় সরাসরি ত্রাণ সরবরাহের জন্য ইসরায়েল যে কাঠামো তৈরি করেছে, তা ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের’ মতো। তারা বলেছে, সহায়তা অবশ্যই দক্ষ আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় সরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। ইসরায়েলের কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, পরিকল্পনায় ‘হামাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হামলার’ বিষয়টিও রয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি কেমন হবে, তা বলা হয়নি।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সম্ভাব্য পূর্ণ দখল এবং ত্রাণ ব্যবস্থার সামরিকীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এটি শুধু মানবিক সংকটকেই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কাও উসকে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ১৩-১৬ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের পরেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছে ইসরাইল। এর আগে জিম্মিদের মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হামাসের সঙ্গে আলোচনা প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র হিসাবে, বর্তমানে গাজার ১৮৫ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা উপত্যকাটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ। গাজার আয়তন ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার।


