রাজনৈতিক সূত্রগুলো সমকালকে জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলের জনভিত্তি তৈরিতে ছাত্র নেতৃত্ব প্রথমে স্থানীয় নির্বাচন চায়। এ জন্য তারা দাবি ও চাপ অব্যাহত রাখবে। বিএনপির কারণে নির্বাচন সম্ভব না হলে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে রাজনৈতিক প্রশাসক বসানো হবে। এ লক্ষ্যেই বিএনপি ও আমলাতন্ত্রের ‘বাধা’ উপেক্ষা করে ছাত্র নেতৃত্বের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) সদ্য সাবেক নেতাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির কোনো নেতাকে প্রশাসক পদে বসানোর প্রস্তাবে দলটি সাড়া না দেওয়ায় সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি তিনটি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হওয়া শাহজাহান মিয়াকে।
সূত্রের ভাষ্য, নিজস্ব ঘরানার প্রশাসকরা স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা ও ভাতা দিতে পারলে তাদের রাজনৈতিক দলের জনভিত্তি তৈরি হবে। বিরোধ এড়াতে বিএনপি, জামায়াত নেতাদেরও সরকারের মাধ্যমে প্রশাসক পদে বসাতে রাজি নাগরিক কমিটি। সংসদের পর স্থানীয় নির্বাচন চায় বিএনপি। দলটির নেতাদের ভাষ্য, সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচনে অগ্রাধিকার, প্রশাসক নিয়োগ- সবই ছাত্রদের দল গঠনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার লক্ষণ। সরকারি সুবিধার আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নতুন রাজনৈতিক দলে ভিড়তে পারেন; অতীতেও তাই হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে কিনা- তা যাচাইয়ের কথা বলে জামায়াত আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবিতে সমর্থন দিয়েছে। দলটির নেতাদের ধারণা, নির্দলীয় পদ্ধতির স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলে বিরোধের কারণে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়বে। এর পর সংসদ নির্বাচনে সুবিধা হবে আওয়ামী লীগশূন্য মাঠে জামায়াতের।
সরকারি উদ্যোগে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের জরিপের বরাতে ড. বদিউল আলম মজুমদার আগে জানিয়েছিলেন, ৪৬ হাজার উত্তরদাতার ৯০%-ই আগে স্থানীয় নির্বাচনের পক্ষে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে সাক্ষাতে জামাত আবারো আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে, যার কড়া বিরোধিতা করেছে বিএনপি। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনে এগোবে কী অন্তর্বর্তী সরকার?


