স্টেম সেল থেরাপি : বদলে দেবে আগামী দিনের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য

স্টেম সেল থেরাপি অন্ধত্বের চিকিৎসায় আশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এ থেরাপি দ্বারা চোখের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পুনর্গঠন এবং দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের কিছু পরীক্ষামূলক ফলাফল এসেছে। জেটী ভবিষ্যতে অনেক রোগীকে অন্ধত্ব মুক্তিতে সাহায্য করতে পারে। এ থেরাপি চোখের বিভিন্ন অংশে যেমন- রেটিনা, কর্নিয়া, এবং অপটিক নার্ভ – কোষ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।এই থেরাপির মাধ্যমে চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনরুজ্জীবিত করা বা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। রেটিনাল ডিজেনারেশন, যেমন রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, এমন রোগ যা রেটিনার কোষের ধ্বংসের ফলে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়। স্টেম সেল থেরাপি এই ক্ষতিগ্রস্ত রেটিনা কোষ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেম সেল ব্যবহার করে স্নায়ু কোষ এবং অন্যান্য রেটিনা কোষ তৈরি করা সম্ভব, যা দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে, এম্ব্রায়োনিক স্টেম সেল থেকে রেটিনা কোষ তৈরি করার পরীক্ষা চালানো হয়, যা কিছু রোগীর মধ্যে আশাপ্রদ ফলাফল দেখিয়েছে। কর্নিয়া সম্পর্কিত রোগের ফলে অনেক মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। স্টেম সেল থেরাপি কর্নিয়ার কোষ পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে স্টেম সেল ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত কর্নিয়া পুনর্গঠন করাও সম্ভব এবং কিছু রোগী এতে সাফল্যও পেয়েছেন।

২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে স্টেম সেল ব্যবহার করে রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।রোগীকে এম্ব্রায়োনিক স্টেম সেল দিয়ে রেটিনার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল এবং তার দৃষ্টিশক্তিতে কিছু উন্নতি দেখা গিয়েছিল। ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালের পরীক্ষায় স্টেম সেল থেরাপি ব্যবহার করে কর্নিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। রোগীদের নিজস্ব স্টেম সেল ব্যবহার করে একটি নতুন কর্নিয়া স্তর তৈরি করা হয়, যা বেশ কিছু রোগীর জন্য কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।

সম্প্রতি জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী কোহজি নিশিদা এবং তাঁর দল লিম্বাল স্টেম সেল ডেফিসিয়েন্সি (খঝঈউ) নামক জটিল চোখের রোগে আক্রান্ত রোগীদের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে স্টেম সেল থেরাপি প্রয়োগে সফলতা পেয়েছেন। তাঁরা সুস্থ রক্তকোষ থেকে প্রাপ্ত প্ররোচিত পুরিপোটেন্ট স্টেম সেল (রচঝঈং) ব্যবহার করে কর্নিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ প্রতিস্থাপন করেছেন, যার ফলে চারজন রোগীর মধ্যে তিনজনের দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছে। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা ২০২৩ সালে লিম্বাল স্টেম সেল ব্যবহার করে কর্নিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত দুই রোগীর দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে সফল হয়েছেন। এই সেলগুলো কর্নিয়ার পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম, যা কর্নিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্টেম সেল থেরাপি অন্ধত্বের চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটাতে পারে। তবে অনেকে ধারণা করছেন এটি এখনও একটি নতুন ক্ষেত্র যার জন্য আরো গভীর গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এটি চোখের রোগের জন্য একটি কার্যকরী চিকিৎসা হয়ে উঠতে পারে, যা লাখ লাখ মানুষকে নতুন দৃষ্টিশক্তি এবং উন্নত জীবনযাত্রা প্রদান করবে।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন