প্রতি বছরের ৪ মে তারিখে বিশ্বজুড়ে যেন এক বিশেষ আলোড়ন তৈরি হয়। সিনেমা-প্রেমী থেকে সাধারণ দর্শক, সকলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দোকানপাট ও সংবাদমাধ্যম স্টার ওয়ার্স থিমে রঙিন হয়ে ওঠে। এই দিনটিই স্টার ওয়ার্স ডে — এক অনানুষ্ঠানিক উৎসব, যেখানে উদযাপিত হয় মহাকাব্যিক সাই-ফাই ফ্র্যাঞ্চাইজ ‘স্টার ওয়ার্স’-এর প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ।
স্টার ওয়ার্স ডে-র মূল উৎপত্তি সিনেমার আইকনিক সংলাপ “May the force be with you”-এর মজার রূপান্তর “May the 4th be with you” থেকে। ১৯৭৭ সালে প্রথম স্টার ওয়ার্স সিনেমা মুক্তির পর এই বাক্যাংশটি ধীরে ধীরে ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যে মার্গারেট থ্যাচারের বিজয় উদযাপন উপলক্ষে এক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনেও “May the 4th be with you” ব্যবহৃত হয়েছিল। যদিও অনেক পুরনো ভক্ত আসল স্টার ওয়ার্স ডে হিসেবে ২৫ মে — প্রথম সিনেমার মুক্তির দিন — মনে করেন, ক্যালিফোর্নিয়া আইনসভা ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ মে-কে স্টার ওয়ার্স ডে হিসেবে ঘোষণা দেয়।
প্রথমদিকে শুধু অনুরাগীদের ব্যক্তিগত কৌতুক ও সিনেমা-দেখা দিয়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ধীরে ধীরে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে এক বৃহৎ সাংস্কৃতিক ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। ডিজনি ২০১২ সালে লুকাসফিল্ম অধিগ্রহণের পর থেকে দিনটিকে বাণিজ্যিকভাবেও গ্রহণ করেছে। তারা বিশেষ প্রদর্শনী, নতুন পণ্য ও স্টার ওয়ার্স থিমে নানা ইভেন্ট আয়োজন করে। এমনকি নিসান, জেমসন হুইস্কি-এর মতো নানা ব্র্যান্ডও তাদের প্রচারে এই দিনকে কাজে লাগায়।
তবে এই ব্যাপক বাণিজ্যায়ন সব ভক্তের মন রক্ষা করেনি। ম্যাশএবল সম্পাদক ও স্টার ওয়ার্স ইতিহাসবিদ ক্রিস টেলর নিজেকে “May the 4th গ্রিঞ্চ” বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, “আমি ভালো ড্যাড-জোক পছন্দ করি ঠিকই, তবে এটিকে কখনও কখনও বাড়াবাড়ি করা হয়।”
এ বছর স্টার ওয়ার্স ডে-তে ডিজনি ও নতুন সিরিজ Star Wars: Tales of the Underworld মুক্তি দিচ্ছে। সেইসঙ্গে চলতি Andor সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুমও দর্শকদের মন কাড়ছে। ঘোষণা এসেছে ২০২৭ সালে রায়ান গসলিং অভিনীত নতুন স্টার ওয়ার্স সিনেমা আসছে। দোকানে এসেছে নতুন লাইটস্যাবার সেট, গয়না থেকে নানা সংগ্রহশালার পণ্য।
শুধু তাই নয় মেজর লিগ বেসবলের দলগুলোও স্টার ওয়ার্স থিমে ম্যাচ আয়োজন করেছে। সান ফ্রান্সিসকো জায়ান্টসের ম্যাচে “ওবি-ওয়েব কেনোবি” ববলহেড বিতরণ হয়েছে। জার্মানির গির্জা থেকে পেনসিলভানিয়ার নিউ হোপ শহর পর্যন্ত স্টার ওয়ার্স থিমে প্রার্থনা সভা ও শহরব্যাপী কসপ্লে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিউ হোপ শহরে রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত হচ্ছে বিশেষ পানীয় “YodaRita”।
স্টিভ স্যানসুইট, বিশ্বের বৃহত্তম স্টার ওয়ার্স সংগ্রহশালার প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “এটি এমন একটি দিন, যেদিন আমরা সবাই আমাদের ভক্তি ও আবেগ উদযাপন করতে পারি।” এসব প্রমাণ করে, সিনেমা কিভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এক বিশ্বজনীন সাংস্কৃতিক আবেগ হয়ে উঠতে পারে।


