টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক উদ্ভাবন, নিজেই নিজের মেরামত করছে কংক্রিট।
ড. জিন ও তাঁর দল টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক যুগান্তকারী সেলফ-হিলিং কংক্রিট তৈরি করেছেন, যা প্রাকৃতিক লাইকেন থেকে অনুপ্রাণিত। এই জীবন্ত উপাদানটি ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাটল সারায়, বিশ্বজুড়ে অবকাঠামোর টেকসই রক্ষণাবেক্ষণে এটি এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

প্রকৃতির অনুপ্রেরণায় এই উদ্ভাবনের শক্তি কৃত্রিম লাইকেন
লাইকেন হলো ছত্রাক ও সায়ানোব্যাকটেরিয়ার সহাবস্থানের এক বিস্ময়, যা কঠিন পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। এই ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গবেষকেরা কংক্রিটের ভেতর এই জীবাণুগুলো বসিয়ে দিয়েছেন। যা বাতাস, আলো ও পানির সাহায্যে নিজেই ফাটল সারাতে পারে।

কীভাবে কাজ করে?
জীবাণুরা ভেতর থেকেই কংক্রিট মেরামত করে, ফাটল দেখা দিলেই পানির সংস্পর্শে সক্রিয় হয় জীবাণুগুলো। সায়ানোব্যাকটেরিয়া সূর্যালোক ব্যবহার করে ফটোসিনথেসিসের মাধ্যমে শক্তি তৈরি করে, যা ছত্রাককে সহায়তা করে। ছত্রাক তখন ক্যালসিয়াম কার্বোনেট উৎপাদন করে, যা ফাটল ভরে দিয়ে কংক্রিটের শক্তি ফিরিয়ে আনে।

কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
কার্বন নির্গমন কমানো এবং খরচ বাঁচানো, দামি ম্যানুয়াল মেরামত বা রাসায়নিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন না থাকায়, এই সেলফ-হিলিং কংক্রিট অবকাঠামোর আয়ু বাড়ায়, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমায় এবং নির্মাণে কার্বন নির্গমন কমায়, এসব টেকসই নির্মাণের দিকে এক বিশাল পদক্ষেপ।

ভবিষ্যতের অবকাঠামো
স্মার্ট, টেকসই এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ, এই বিপ্লবী উপাদান বিশ্বজুড়ে সেতু, সড়ক ও ভবনগুলোকে করে তুলবে আরও মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী। ড. জিনের দল এখন জনসাধারণের আস্থা ও নৈতিক দিকগুলোও খতিয়ে দেখছে, যাতে এই জীবন্ত প্রযুক্তি সমাজের জন্য দায়িত্বশীলভাবে উপকারে আসে।


