বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক ফলাফলে উঠে এসেছে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত এক দশকে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির পেছনে বড় অবদান রেখেছে সেবা খাত। তবে এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে উৎপাদন তথা শিল্প খাত। ১০ বছর পর পর হওয়া অর্থনৈতিক শুমারিতে কৃষি খাতকে ধরা হয় না। শুমারিতে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিল্প উৎপাদন ও সেবা এই দুই খাতে ভাগ করা হয়েছে।
দেখা গেছে, ২০১৩ সালে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উৎপাদন খাতের হিস্যা ছিল ১১.৫৪%। গত ১১ বছরের ব্যবধানে উৎপাদন খাতের এ অবদান কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭৭%। বিবিএসের হিসাবে বর্তমানে দেশে ১০ লাখ ৪১ হাজারের বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান বাড়ার গতিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৫.৩৮%। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাড়ে ১০০%। এদিকে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি কমলেও বেড়েছে সেবা খাতে। বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ৯১%-এর বেশি হচ্ছে সেবা খাতের, যা ২০১৩ সালে ছিল ৮৮.৪৬%। মুদিদোকান থেকে শুরু করে অনলাইনের বেচাকেনা-সবই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত। তবে সাধারণত শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি হয়। অর্থনীতির আকার বাড়াতেও এই খাতের ভূমিকা বেশি।
অর্থনৈতিক শুমারিতে থানাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চিত্রও উঠে এসেছে, যা মূলত ইনফরমাল বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত হিসেবে পরিচিত। বাসাবাড়িতে কুটির শিল্পের মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান প্রভৃতি এ খাতে ধরা হয়েছে। শুমারিতে দেখা যায়, গত ১১ বছরে এ খাতের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৭৮%। বিবিএসের হিসাবে বর্তমানে দেশে ৫০ লাখের বেশি ইনফরমাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া দেশে ই-কমার্সসহ অনলাইন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৮। শুমারির তথ্যমতে, গত ১০ বছরে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৬২ লাখ মানুষের। অথচ ২০১৩ সালে বেড়েছিল দ্বিগুণ। অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের পরিচালক এস এম শাকিল আখতার আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত ১০ বছর বড় শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি বললেই চলে। নানা কারণে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর বৃদ্ধি না পেলেও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান বেড়েছে। এতেই বোঝা যায়, অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। শুমারিতে এসেছে উদ্যোক্তাদের বেশির ভাগই মূলধন সমস্যায় রয়েছেন। আবার যাদের মূলধন নেই, তারা সহজে ঋণও পান না। অথচ, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ভুইফোড় প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া এত টাকা কোথায় গেছে, কেউ জানেন না। ব্যাংক খালি হয়ে গেছে। দেশে আর্থিক খাতে বৈষম্য কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার নিদারুণ উদাহরণ এটি।


