পৃথিবীর কোনো প্রান্তে নারীকে যখন ঘরে বন্দি রাখার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, এমনই এক সময়ে প্রস্তুতি ছাড়াই এক নারী মহাকাশে কাটিয়ে এসেছেন দীর্ঘ নয় মাস। নাসার অন্যতম অভিজ্ঞ মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস গত বছরের ৮ জুন আরেক সহকর্মী বুচ উইলমোরকে সঙ্গে নিয়ে মহাকাশ যাত্রা করেন। কথা ছিল ৮ দিনের মহাকাশ অভিযান শেষে ফিরে আসবেন। কিন্তু কারিগরি জটিলতায় স্পেস স্টেশনেই আটকা পড়েন তারা। তারপর সেখানে বাধ্য হয়েই কাটান নয় মাস! এর পরের গল্প সংবাদমাধ্যমের বদৌলতে সবারই জানা।দীর্ঘ নয় মাস প্রায় প্রস্তুতিবিহীন মহাকাশ অভিযানে বসে থাকেননি বুচ ও সুনীতা। তারা গবেষণা করে বের করেছেন মাইক্রো গ্র্যাভিটিতে কোন কোন ফসল উৎপাদন করা যায়, মহাকাশে ফুল ফোটানো সম্ভব কিনা-ইত্যাদি।
শুধু তাই নয়, একজন মহাকাশচারীর যেহেতু নানা শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তার হৃৎপিণ্ড, কিডনি ইত্যাদি কতটা সক্রিয় থাকে, কীভাবে থাকে প্রায় প্রস্তুতিবিহীন অভিযানে সে সমস্তও সেরে নিয়েছেন অসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই দুই নভোচারী।কয়েক মুহূর্ত লিফটে আটকে গেলে অনেকের যেখানে দম বন্ধ হয়ে যায়, সেখানে সুনীতা মহাকাশে নিজের প্রিয় ফুলও ফুটিয়ে ফেলেছেন। সুনীতা উইলিয়ামস ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইউক্লিড শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম সুনীতা লিন উইলিয়ামস। তার বাবা দীপক পান্ড্য একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক, আর মা বনি পান্ড্য ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত।
স্নাতক শেষ করার পর তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং একজন হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কাজ করেন। তবে নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে ১৯৯৮ সালে তিনি নাসাতে নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রশিক্ষণের পর ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো মহাকাশে যান তিনি। সেবার তার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কাটানো ১৯৫ দিন ছিল কোনো নারী মহাকাশচারীর মহাকাশে কাটানো সর্বোচ্চ সময়। এরপর ২০১২ সালে তিনি আবারো মহাকাশে যান এবং গড়েন নতুন রেকর্ড। এই মিশনে তিনি স্পেসওয়াকের মাধ্যমে ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় মহাকাশ স্টেশনের বাইরে কাজ করেন। এটিও ছিল কোনো নারী মহাকাশচারীর জন্য রেকর্ড।


