সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে নতুন মোড় নিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা। আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি ‘জেনারেল হেমেদতি’ নামে পরিচিত, জানিয়েছেন—তাঁদের নেতৃত্বেই সুদানের জন্য একটি “বাস্তবসম্মত ভবিষ্যৎ” গঠিত হতে পারে। এই ঘোষণার মাধ্যমে হেমেদতি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর সরকার ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের বিপরীতে আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা ঐক্য চাই, আধিপত্য নয়।” ধর্ম, অঞ্চল কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের সরকার কেবল আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেই নয়, বরং সমগ্র দেশের মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করবে।
এ ঘোষণার ঠিক আগেই লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সুদানের সব পক্ষকে শান্তির পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও তাঁর সাবেক সহকারী হেমেদতির মধ্যে ক্ষমতা দ্বন্দ্ব থেকেই এই গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। গত দুই বছরে এ সংঘাতে দেড় লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল এখন আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সুদানের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে।


