সম্প্রতি ভারত সরকারের একটি নতুন নিরাপত্তা নীতিমালায় বলা হয়েছে–সিসিটিভি নির্মাতাদের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও সোর্স কোড সরকারের পরীক্ষাগারে জমা দিতে হবে অনুমোদনের জন্য। বিষয়টি নিয়ে বৈশ্বিক সিসিটিভি বাজারে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা।
ভারতের এ পদক্ষেপ মূলত চীনের প্রযুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক উচ্চপদস্থ ভারতীয় নীতিনির্ধারক।রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২১ সালে ভারতের তৎকালীন আইটি প্রতিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ১০ লাখ সিসিটিভির বেশির ভাগই ছিল চীনা কোম্পানির এবং ভিডিও তথ্য বিদেশি সার্ভারে পাঠানোর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
চলতি বছরের ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী চীনের হিকভিশন, দাহুয়া ও শাওমি, দক্ষিণ কোরিয়ার হানহোয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মটোরোলা সলিউশনসসহ সব নির্মাতাকে ভারতের পরীক্ষাগারে ক্যামেরা জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে।
ভারতের সাবেক সাইবার নিরাপত্তা প্রধান গুলশন রাই রয়টার্সকে বলেন, ইন্টারনেট-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার ঝুঁকি সবসময় থেকেই যায়। সেগুলো যথেষ্ট সুরক্ষিত ও শক্তপোক্ত না হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে। ভারত সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, এই নিয়ম কোনও নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়। বরং দেশের নজরদারি ব্যবস্থার গুণমান ও সাইবার নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের সিসিটিভি বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে এর বাজার প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ যন্ত্রাংশই আসে চীন থেকে। চীনের হিকভিশন ও দাহুয়ার মার্কেট শেয়ার ৩০ শতাংশ এবং ভারতের সিপি প্লাসের শেয়ার ৪৮ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২২ সালে হিকভিশন ও দাহুয়ার যন্ত্রপাতি বিক্রি নিষিদ্ধ করে। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াও চীনা যন্ত্রের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ভারতের কর্মকর্তারাও বলছেন, যেসব যন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোর অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ, চিপসেট—সবই পরীক্ষা করে দেখা জরুরি। কারণ, চীন এ ব্যাপারে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ।


