বাশার ও দামেস্কের পতন
রাজধানী দামেস্কে ঢুকে পড়েছে বিদ্রোহীরা। এই পরিস্থিতিতে আজ সকালে একটি উড়োজাহাজে চেপে পালিয়ে গেছেন দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশটির শাসক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। সিরিয়ার দুই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রোববার এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তারা বিনা বাধায় রাজধানীতে প্রবেশ করেছেন। সরকারের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কোন ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি তাদেরকে। কয়েক ঘণ্টা আগে বিদ্রোহীরা মাত্র এক দিনের যুদ্ধেই গুরুত্বপূর্ণ শহর হোমস দখলের ঘোষণা দেয়। সে সময়ই বাশারের ২৪ বছরের ইস্পাত কঠিন শাসনের ভাগ্য সুতোয় ঝুলতে শুরু করে।
ইতোমধ্যে সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে রাজি। হোমসের পতনেই আসাদের নিয়তি নির্ধারণ হয়। কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের মধ্য দিয়েই আসাদের মূল শক্তির কেন্দ্র থেকে দামেস্কের যোগাযোগ ছিল। হোমস হাতছাড়া হওয়ায় রুশ মিত্রদের নৌ ও বিমানঘাঁটির সঙ্গে দামেস্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সিরিয়া ইস্যুতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু করার নেই। এটা আমাদের লড়াই নয়। যারা লড়ছে, তাদের লড়তে দিন। এর মধ্যে যুক্ত হওয়ার দরকার নেই।’
সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কাতারের দোহায় শনিবার বৈঠকের পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন পক্ষগুলো সিরীয় সরকার এবং বৈধ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট। অন্যদিকে বাশার আল আসাদের বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে আসছে রাশিয়া ও ইরান। এ তিন দেশ ২০১৭ থেকে সিরিয়ায় রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে আসছে। সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে কাতার বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে আসছে। এখন তারা এ সংঘর্ষ থামাতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
গত ২৭ নভেম্বর হায়াত তাহরির আল শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সরকারি বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলা শুরু করে। আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন থেকে বের হয়ে এইচটিএস গঠিত হয়। এইচটিএসের নেতৃত্বে ঘটনার আকস্মিকতায় দৃশ্যত অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে সরকারি বাহিনী। বিদ্রোহীরা সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখল করে নেয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার মধ্যাঞ্চলীয় হামা শহর থেকে পিছু হটে সরকারি বাহিনী। এর পর থেকে একে একে অন্য শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে আসাদের সরকারি বাহিনী। এর আগে যুদ্ধে বাশার আল আসাদের বাহিনী এত অল্প সময়ের মধ্যে এত গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি।
আল জাজিরা জানিয়েছে সিরিয়ার পরিস্থিতিতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে পাঁচ আরব দেশসহ আট দেশ। কাতার, সৌদি আরব, জর্দান, মিশর, ইরাক, ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেছেন, সিরিয়ায় সব পক্ষকে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে, যা সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।


