পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। যা প্রমাণ করে, নদী তীরবর্তী প্রতিবেশীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ভারত পানিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করবে না। এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত। ২৬ এপ্রিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নিশাত বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি পুনঃনবায়নের সম্ভাবনার ওপরও ‘ছায়া ফেলেছে’।
অধ্যাপক নিশাত মনে করেন, ‘যখন ঢাকা ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে তখন বাংলাদেশে অনেকের সন্দেহ ছিল যে, ভারত প্রতিশ্রুতি মত গঙ্গার পানি সত্যিই দেবে কিনা। কারণ নদীর আসল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভারতের হাতে। সিন্ধু নদের পানি চুক্তি একটি বড় চুক্তি যা ভারতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল। সমালোচকরা এখানে সিন্ধু নদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে যুক্তি দিতে পারেন যে, গঙ্গার বিষয়ে ভারতের আশ্বাসেরও কোনো মূল্য নেই।’ অধ্যাপক নিশাত বলছেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়টি আগামী বছর আসবে। কিন্তু ভারত যদি সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনে ভারতের আগ্রহ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।’
অধ্যাপক নিশাত বলেছেন, চুক্তিগুলো আইনি নথি এবং সাধারণভাবে ধারণা করা হয় যে, এ ধরনের নথি রাজনৈতিক আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হবে না। “কিন্তু সিন্ধু নদীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে রাজনৈতিক বিবেচনা আইনি নথিকে প্রভাবিত করতে পারে,” বলেন প্রফেসর নিশাত। তাঁর কথায় ইঙ্গিত রয়েছে যে, রাজনৈতিক বিরোধ বাড়লে ভারত হয়তো পানি-প্রবাহকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে পিছপা হবে না। তিনি আরও বলেন, “গঙ্গা ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য তিস্তা নদীর পানিবণ্টন একটি বড় বিষয় এবং ঢাকা তিস্তায় চীনের ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণে সম্মত হয়েছে।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ বাড়ছে।
শেখ হাসিনার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বকালে ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া এবং প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) শেখ হাসিনার মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি বাংলাদেশকে বর্ষাকালে ন্যূনতম পানি প্রবাহের সুযোগ করে দেয়। তিন দশক পর ‘পারস্পরিক সম্মতিতে’ এই চুক্তি নবায়ন করা যেতে পারে। সেই অনুযায়ী চুক্তিটি ২০২৬ সালে নবায়নের জন্য উত্থাপিত হবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গত ৬ই মার্চ কলকাতায় ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি টিমের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি। এই উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ফারাক্কায় যৌথ পর্যবেক্ষণ স্থানটিও পরিদর্শন করে।


