গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ ডিসমিসল্যাব এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতি ও ধর্মসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি বেড়েছে। ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে ফ্যাক্ট-চেক প্ল্যাটফর্মগুলো ৯১৭টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৪২শতাংশ) ছিল রাজনৈতিক ভুল তথ্য।রাজনৈতিক ভুল তথ্যের পরেই রয়েছে ধর্ম বিষয়ে ভুল তথ্য (সাড়ে ১১ শতাংশ)। রাজনৈতিক ভুল তথ্য মূলত দুই পক্ষকে ঘিরে ছড়িয়েছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতাদের জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, যা ৩৬ শতাংশ। আর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, তাঁর সরকার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের জড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, যা ৩৫ শতাংশ।
ডিসমিসল্যাব ভুল তথ্যকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে: ‘নেতিবাচক’ ও ‘ইতিবাচক বা নিরপেক্ষ’। শেখ হাসিনা সম্পর্কিত ভুল তথ্যের প্রায় ৪৯ শতাংশ ছিল তাঁকে মহিমান্বিত করা। অন্যদিকে ড. ইউনূসকে ঘিরে ভুল তথ্যের ৬৫ শতাংশ ছিল নেতিবাচক। আগস্টের শুরুতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাসংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। যেখানে পুরনো ছবি বা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন ছবি-ভিডিও ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে এক্স অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত ছবি-ভিডিও ছড়ানো হয়। যার বেশির ভাগ অ্যাকাউন্টের উৎস ভারত। ধর্ম বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নামে মিথ্যা বিবৃতিও ছড়ানো হয়েছে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর যত ভুল তথ্য ফ্যাক্ট-চেকাররা শনাক্ত করেছেন, তার মধ্যে ভিডিও ৩১ শতাংশ। এরপরে ছবি ২৭ শতাংশ এবং গ্রাফিক কার্ড ১৯ শতাংশ। গ্রাফিক কার্ডের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের মধ্যে ৮১ শতাংশ প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের নাম ও লোগো নকল করা। এ ধরনের ভুল তথ্যের প্রায় অর্ধেকই রাজনীতিসংশ্লিষ্ট।


