তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম গতকাল জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে যেসব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ বছরে এমন কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং নির্যাতনের পক্ষে একতরফা বর্ণনা প্রচার করেছে।’’
তথ্য অধিদপ্তর ও প্রকাশনা বিভাগের মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘‘ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন’’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মাহফুজ আলম বলেন, ‘‘আমরা তদন্ত করব, কখন এবং কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে এবং কীভাবে এরা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ও হলুদ সাংবাদিকতার জন্ম দিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যদি আমরা পেশাদার, উচ্চমানের সাংবাদিকতা চাই, তবে ভালো ও খারাপের পার্থক্য নির্ধারণ করতে হবে।’’
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমি অবাক হই যখন দেখি কিছু পত্রিকা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার না করে শুধু ‘জুলাই আন্দোলন’ বলে। জনগণের অভ্যুত্থানকে স্বীকার না করে তারা এটিকে শুধু ‘শাসন পরিবর্তন’ বলে চালিয়ে দেয়… এটা ভারতের বর্ণনা।’’
তিনি সতর্ক করেন, এমন প্রবণতা চলতে থাকলে সরকার নয়, জনগণ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোই তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, জনপ্রিয় গণমাধ্যমগুলো তাদের সার্কুলেশনের ভিত্তিতে বেশি সরকারি সুবিধা পাবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার চায় না সাংবাদিকরা সরকারের পক্ষে লিখুক।
তিনি জানান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে বিচারাধীন ২৬৬ জন সাংবাদিকের তথ্য রয়েছে। এসব মামলার প্রকৃতি যাচাই করে দেখা হবে সেগুলো হয়রানিমূলক কি না। প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নির্যাতিত সাংবাদিকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
জয় জয় দিনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের সময়ে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রত্যাহার করুক। এইসব মামলার শিকাররা এখনও মানসিক ও আর্থিকভাবে ভুগছে।’’
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (পরবর্তীকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) প্রথম মামলা আমার বিরুদ্ধে হয়েছিল হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনামলে।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘ফ্যাসিজম ও মুক্ত গণমাধ্যম পাশাপাশি থাকতে পারে না।’’
মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, সাংবাদিকতার আর্থিক স্বতন্ত্রতা জরুরি। তাঁর ভাষ্য, ‘‘গণমাধ্যম সাধারণ ব্যবসা নয়। এটি ব্যাংকের মতো লাভবান হতে হবে না। তবে গণমাধ্যমের টিকে থাকার মতো আয় থাকতে হবে। তাদের স্বনির্ভর হতে হবে এবং সরকারি অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল হওয়া চলবে না।’’


