দেড় কোটি পরিবারকে দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য কমাতে মাসে ৪,৫৪০ টাকা আয় সহায়তা দিতে খরচ হবে বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। দেশে সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচি পুরোপুরি কার্যকর নয়। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক উপকারভোগী এসব সহায়তা পান না। প্রয়োজনীয় বাজেট ও অর্থ বিতরণ নিয়েও রয়েছে জটিলতা। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য কমাতে ইউনিভার্সেল বেসিক ইনকাম (ইউবিআই) বা ‘সর্বজনীন ন্যূনতম আয়’ নামে একটি সমন্বিত সুরক্ষা কর্মসূচির প্রস্তাব করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে সিপিডির পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
নতুন এ পদ্ধতিতে দেশের প্রতিটি দারিদ্র্যপীড়িত, স্বল্প আয় ও আয়বিহীন পরিবার জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম একটি আয় (অর্থসহায়তা) রাষ্ট্র থেকে পাবে। গবেষণায় এসেছে সারাদেশে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলে মোট পরিবারের ৩৫.৯০% অর্থাৎ ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৫ হাজার পরিবারকে এ অর্থ দিতে হবে। সিপিডি হিসাব করে দেখেছে, পরিবারের আয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবারকে মাসে ৪,৫৪০ টাকা ন্যূনতম সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তাতে একটি পরিবার মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে জাতীয়ভাবে দারিদ্র্যের হার ৬.১৩% এ নামিয়ে আনা সম্ভব। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বছরে সরকারের ৭৫ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা লাগবে। আগামী বাজেট থেকেই স্বল্প বা বিস্তৃত পরিসরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়ে সিপিডি বলছে, এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা ও কৃষি খাতে ভর্তুকি ছাড়া অন্যান্য সাধারণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না। ফলে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নে খুব বেশি বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বজনীন মৌলিক আয় নিশ্চিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানাভাবে দরিদ্র নাগরিকদের সহায়তা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়ন ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হচ্ছে মৌলিক আয় পূরণে একটি অংশ সরকার থেকে দেওয়া। এর জন্য ন্যূনতম একটা আয় লেভেল ঠিক করে তার নিচে যাদের আয় থাকবে, তাদের সহায়তা করা হয়। দেশের প্রতিটি পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি বাড়াতে, দারিদ্র্যের হার কমাতে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন গতিশীল করতে সর্বজনীন ন্যূনতম আয় ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে রেহমান সোবহান বলেন, ‘ইউবিআই নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয় ১৯৮০ সালের দিকে। তবে বাংলাদেশে এটি আলোচনার টেবিলে আসতে চার দশক সময় লেগেছে। আমরা এখন নতুন সময়ে উপনীত হয়েছি। এ পরিস্থিতিতে ইউবিআই শুধু একাডেমিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এ কর্মসূচি গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’ সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করলে এ ধরনের ভাবনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এসব ক্ষেত্রে মানুষকে যখন সরকার থেকে টাকা দেওয়া হয়, তখন এর ইতিবাচক প্রভাব সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে পড়ে।’


