৩০ জুন প্রকাশিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিস্টিকস অফ পাবলিক সার্ভেন্টস, ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে — ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরে মোট ৪,৬৮,২২০টি পদ শূন্য রয়েছে, যা অনুমোদিত মোট পদের ২৪.৩০%।
প্রতিবেদন অনুযায়ী–সময়মতো নিয়োগ না হওয়া, মামলা, পদ অনুমোদনের পরও নিয়োগ অনুমোদনের ঘাটতিসহ নানা জটিলতার কারণে এত বিপুল শূন্যপদের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৩ সালের শেষে অনুমোদিত মোট পদ ছিল ১৯,১৯,১১১টি। এর মধ্যে কর্মরত ছিলেন ১৪,৫০,৮৯১ জন। বাকি ৪,৬৮,২২০টি পদ শূন্য ছিল। কর্মরতদের মধ্যে পুরুষ কর্মচারী ছিলেন ১০,৩৯,১০০ জন এবং নারী কর্মচারী ৪,১১,৭৯১ জন; অর্থাৎ পুরুষ ও নারীর অনুপাত ছিল ২.৫ : ১।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-কে জানান–২০২৪ সালের শেষে শূন্যপদের সংখ্যা আরও বেড়েছে। কারণ ওই বছরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হয় এবং এরপর ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে সরকার পদত্যাগ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নানা জটিলতায় অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যায়।
তবে একই সময়ে অবসর, পদোন্নতি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত থাকায় উচ্চপদে কর্মরত জনবল অনুমোদিত সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
প্রথম থেকে ১২তম গ্রেড পর্যন্ত গেজেটেড পদে নিয়োগ দেয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আর ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগ দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।
এসব শূন্যপদের বেশিরভাগই ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের মধ্যে, যেখানে সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ ২০তম গ্রেডে—৭৯,১৫১টি। এরপর ১০ম গ্রেডে রয়েছে ৭১,৭৯৭টি শূন্যপদ। এসব পদ বেশিরভাগই বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের।
অন্যদিকে, গ্রেড-১ (সচিব পদমর্যাদা) পদে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি জনবল কর্মরত রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।


