সব মত ও আদর্শের সঙ্গে মিলে কাজ করার অঙ্গীকার : ডাকসুর নতুন ভিপি সাদিক কায়েমের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আবু সাদিক কায়েম বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর সকল মত ও আদর্শের সঙ্গে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চমৎকার একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

আজসকালে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেকে ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বন্ধুর, শিক্ষকের ছাত্র বা পরিবারের সদস‍্য হিসেবে পরিচয় দিতে চান। তিনি সব শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও একাডেমিক সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধর্মের, যে মতের, যে পথের বা আদর্শের শিক্ষার্থীই থাকুক না কেন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। বিশ্ববিদ্যালয়কে মাল্টিকালচারাল ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষ থেকে চমৎকার একাডেমিক পরিবেশ, গবেষণার সুযোগ, নিরাপদ আবাসন, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করবে।”

তিনি নির্বাচনের গুরুত্বকে সাধারণ বিজয়ের চেয়ে শিক্ষার্থীর জয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে জয়–পরাজয় নেই। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই প্রজন্ম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং ছাত্র সমাজের আকাঙ্ক্ষা বিজয়ী হয়েছে। আমরা স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের এবং ক্যাম্পাসে সহপাঠী ও সহযোদ্ধাদের যারা নিহত হয়েছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী এস এম ফরহাদও বক্তব্য দেন। তিনি জানান, জিএস পদে তার বিজয় কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর দেওয়া আমানতের ফল। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে উপদেষ্টা হিসেবে মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, কোনো ভুল হলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মাধ্যমে তা শুধরে নেবেন।

দুই নেতা-ই বিজয়ের পর কোনো শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক র‍্যালি না করার ঘোষণা দেন। তাদের মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ক্যাম্পাস নির্মাণ করা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আবু সাদিক কায়েম ভিপি পদে ১৪,০৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫,৭০৮ ভোট। জিএস পদে এস এম ফরহাদ ১০,৭৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের তানভীর বারী হামিম পেয়েছেন ৫,২৮৩ ভোট। এছাড়া এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের মুহা. মহিউদ্দীন খান ১১,৭৭২ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন