সতর্কতার সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা ভারত-চীনের : বিবিসি রিপোর্ট

সীমান্তে বছরের পর বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর ভারত ও চীন এখন ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এবং বড় চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।

গত মাসের শেষ দিকে দুইজন শীর্ষ ভারতীয় কর্মকর্তার চীন সফর এই সম্পর্ক উষ্ণতার ইঙ্গিত দেয়। জুনে ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে অংশ নিতে চীনে যান। পাঁচ বছরের মধ্যে চীনে কোনো ভারতীয় শীর্ষ কর্মকর্তার এটিই ছিল প্রথম সফর।

ভারত-চীনের উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ৩,৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ অমীমাংসিত সীমান্ত। পাহাড়, নদী, হিমবাহে ঘেরা এই সীমান্তে প্রায়ই সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন, যা অনেক সময় সংঘর্ষে রূপ নেয়।

২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় ও ৪ জন চীনা সেনা নিহত হন। এরপর বিভিন্ন স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছেই।

তবে ভৌগলিক বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দুই দেশকে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার দিকে নিয়ে গেছে।

গত বছর লাদাখের প্রধান বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় দিল্লি এবং বেইজিং। চলতি বছরের শুরুতে তারা সরাসরি ফ্লাইট চালু ও ভিসা বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সময়ে ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের ছয় বছর পর তিব্বতের কৈলাশ পর্বত দর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়।

চীন ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ভারতের শিল্প উৎপাদন ও কৃষিক্ষেত্রে চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরতা রয়েছে, বিশেষত দুর্লভ খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রে। তাই সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য জরুরি।

চীনও হিমালয় সীমান্তে শান্তি চায়, কারণ তাদের নজর এখন তাইওয়ান এবং অন্যান্য বৈশ্বিক ইস্যুর দিকে। তবে কৌশলগত দিক থেকে চীন মনে করে, পশ্চিমা দেশগুলো ভারতের মাধ্যমে তাদের প্রভাবকে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে।

তাই সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বেইজিং চায় ভারত-চীনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অগ্রগতি হোক এবং চীনা প্রকৌশলী ও কর্মীদের ভিসা সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হোক। (২০২০ সালের সংঘর্ষের পর ভারত অনেক চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ ও বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনামলে ভারতের দিক থেকে চীনের দিকে হাত বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভারত ভেবেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা শক্ত সমর্থন পাবে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে নজর দিচ্ছে দিল্লি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ১ আগস্টের মধ্যে চুক্তি না হলে ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এই পটভূমিতে ভারত চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের দিকে এগোচ্ছে।

দুই দেশ জানে, সীমান্ত বিরোধ দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। তাই উভয়েই এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে, যা পারস্পরিকভাবে লাভজনক এবং উত্তেজনা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করবে, যাতে তারা কোনো বৈশ্বিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন