সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রায় সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংস্কার ও নির্বাচন, ছাত্র নেতৃত্বের নতুন দল গঠন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি প্রসঙ্গসহ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একেবারে প্রত্যেকটা সুপারিশ দেব। সুপারিশের সঙ্গে কথা থাকবে যে, আপনার রাজনৈতিক দল এটা কি সমর্থন করে? এটাতে রাজি আছেন? রাজি থাকলে বলেন, রাজি না থাকলে বলেন। বা এই যে সুপারিশটা আছে সেটার মধ্যে যদি কোনো একটা সংশোধনী এনে রাজি হবেন, সেটা বলেন। এটা কি নির্বাচনের আগে সংশোধন করা ঠিক হবে নাকি নির্বাচনের পরেসব প্রশ্নের এখানেই সমাবেশ আছে।
রাজনৈতিক দলকে শুধু বলতে হবে কোনটা? সবকিছু মিলালে আমরা এটা ঠিক করব কোন সুপারিশে সবাই একমত হয়েছে। সেটা আলাদা করব যে এটাতে সবাই একমত হয়েছে। এ রকম যে সমস্ত সুপারিশে তারা একমত হয়েছে, সেগুলো আমরা আলাদা একটা কাগজে নিয়ে আসব যে এই সব বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। তবে এটাকে আমরা বলব একটা চার্টারুজুলাই চার্টার। সবাইকে আহ্বান জানাব, আপনারা সবাই যেহেতু একমত হয়েছেন এটাতে সই করে দেন। জুলাই চার্টারের মতোই আমরা চলব। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচনটা হবে। নির্বাচনের আগে যেটা বলেছেন সেটা নির্বাচনের আগে হবে, যেটা নির্বাচনের পরে বলেছেন সেটা নির্বাচনের পরে হবে। এটা আপনাদের বিষয়। কিন্তু আপনারা একমত হয়েছেন। সেই ঐকমত্যই আমরা গঠন করার চেষ্টা করছি।’
নির্বাচনটা এ বছরের মধ্যেই হচ্ছে কিনা এ প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরাতো সেটা ঘোষণা করে দিয়েছি। আবার নতুন করে বলারতো কিছু নাই।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘একটা সংস্কার দরকার আমাদের। কারণ যে কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে, ফ্যাসিবাদী সরকার চলতে পেরেছে। ১৬ বছর ধরে চলতে পেরেছে, আমরা কিছুই করতে পারি নাই। তিন – তিনটা নির্বাচন হয়ে গেলো, ভোটারের কোনো দেখা নাই। এই যে অসংখ্য রকমের দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা, মিসরুল ইত্যাদি সেখান থেকে আমরা কীভাবে টেনে বের করে আনবো। টেনে বের করে আনতে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো করতে হবে।’


