বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সঙ্গে আয়োজিত হলে সময় সাশ্রয় হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ও রোধ করা যাবে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক যুব ঐক্য আয়োজিত আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দায়িত্ব দেওয়া উচিত যাতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি বলেন, “দুটি ব্যালট দিলে জাতি বিভ্রান্ত হবে এমন কথা বলা হচ্ছে। অথচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনটি ব্যালটে ভোট হয়। সুতরাং জনগণ দুটি ব্যালটে সংসদ ও গণভোটে অংশ নিতে সক্ষম। শুধু নির্বাচন কমিশনকে প্রচারণা চালাতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি মহা আয়োজন, আর গণভোটও যথেষ্ট জটিল প্রক্রিয়া। দুটি প্রক্রিয়া একই সময়ে আয়োজন করলে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার যেকোনো প্রয়াস এড়ানো সম্ভব হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা বিষয়টি জটিল করার চেষ্টা করছেন, তাদের সুবুদ্ধি উদয় হোক।”
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তিকর প্রচারণা যেমন—সুবহে সাদিকে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর মিছিলের ছবি বা দিল্লি ও ফ্রান্স থেকে পাঠানো বার্তা, এগুলো জনগণ পাত্তা দেয় না। তিনি জোর দেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখলে নির্বাচন নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে ফ্যাসিস্টদের বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে সকল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা আবশ্যক।
আলোচনায় তিনি সার্বিকভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, সময় ও সম্পদ সাশ্রয়, জনগণের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় বিএনপি নির্বাচনের যথাযথ সময়সূচি, নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে।


