তৃণমূল পর্যায়ের জনসাধারণ বলছে, জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় না বিএনপি। দলটি মনে করে, জনআকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারের উচিত জাতীয় নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া। এ ধরনের সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার নজির নেই। কোনো চাপে নতি স্বীকার না করে এবং কোনো পক্ষের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে সরকারের উচিত নির্বাচনমুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। ৬ জানুয়ারি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা এ অভিমত দেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে আরো বলেন যারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায়, তাদের এ ধরনের অভিপ্রায় থাকতে পারে।
গত সোমবার রাজধানীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, জাতীয় পর্যায়ে সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেও ঢাকার বাইরে মানুষের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রাধান্য পাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদেরও এমন মত আছে। ঢাকার বাইরে মতবিনিময় করতে গিয়ে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন এমন আকাঙ্ক্ষার কথা জানতে পেরেছে। কারণ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ের জনসাধারণ বলছে, জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধানের বক্তব্যের পর সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কারণ সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সরকারের প্রতিও মানুষের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আগে অনুষ্ঠানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে করার ব্যাপারে গতকাল পর্যন্ত সরকারের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।
এছাড়া, বাহাত্তরের সংবিধানকে বাতিল করার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি প্রসঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নেতারা বলেন, সংবিধানের বাইরে গেলে দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে। বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাষ্ট্রের সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে। যারা এটা বাতিলের কথা বলছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সংবিধান কখনও কবর দেওয়া যায় না। পরিবর্ধন, পরিমার্জন বা সংশোধন হতে পারে।


