সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব – কিছু পয়েন্ট
- সংবিধানে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দের পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দ ব্যবহৃত হবে।
- বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি। এই বিধান বিলুপ্ত করে বাংলাদেশের নাগরিকগণ “বাংলাদেশি” বলে পরিচিত হবেন। হিসেবে প্রতিস্থাপন করার সুপারিশ।
- বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার ৪ মুলনীতি ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ পরিবর্তন করে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র’ করার প্রস্তাব।
- ৪ বছর মেয়াদি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ। নিম্ন কক্ষে সরাসরি ভোটে ৪০০ সদস্য, এর মধ্যে ১০০ নারী। উচ্চ কক্ষে ১০০ সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। ৫টি আসন রাষ্ট্রপতি মনোনীত করবেন অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে।
- ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন – অর্থবিল ছাড়া নিম্নকক্ষের সদস্যদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।
- এছাড়া আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি ও দুজন ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।
- একজন সংসদ সদস্য একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের যেকোনো একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে হবে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে হবে এই কাউন্সিল। নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার, অ্যাটর্নি জেনারেল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানসহ কিছু পদে নিয়োগের জন্য কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির কাছে নাম পাঠাবে।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্য, ‘জেলা সমন্বয় কাউন্সিল’ ও ‘সিটি করপোরেশন সমন্বয় কাউন্সিল’ মিলে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে।
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেউ সর্বোচ্চ দুইবারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
- নির্বাচন করার জন্য সংবিধানে ৯০ দিন মেয়াদি অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশনের সুপারিশ। স্থানীয় আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি, শৃঙ্খলাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত, বিচারক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ।
- সংবিধানে মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিকভাবে তার সুরক্ষা এবং তা আদালতের মাধ্যমে বলবতযোগ্য করার সুপারিশ।
- স্থানীয় পর্যায়ে সব উন্নয়নকাজের ওপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব থাকবে। যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্থানীয় সরকারের কাজে সরাসরি নিয়োজিত, তারা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অধীন হবেন।


