মজুরি ও হাজিরা বোনাস বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত শ্রমিক ও চাকরিপ্রত্যাশীরাও চাকরির দাবির পাশাপাশি নিয়োগে নারী-পুরুষের সমতা চেয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন।
– দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্ট
এ সময় কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর করা হয়। এর ফলে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে গতকাল তৈরি পোশাক, ওষুধ, খাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পের শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা গতকাল সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও শ্রম উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে শিল্পের নিরাপত্তায় শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এরপরই অস্থিরতায় ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিল্প পুলিশের যৌথ অভিযানের নির্দেশনা আসে।
শ্রমিকনেতা বাবুল আখতার বলেন- বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি কার্যকর নয়, অন্যদিকে স্থানীয় মাস্তানরা দৌড়ের ওপর আছে। এই সুযোগে শ্রমিকেরাও নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে শুরু করেছেন।
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল রাকিব বলেন – বর্তমান অস্থিরতার পেছনে একটি গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে। তাদের লোকজন লুঙ্গি পরে, হেলমেট মাথায় দিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে; কারখানা ভাঙচুর করছে।
বেতন বৃদ্ধি, চাকরি স্থায়ী করা, সপ্তাহে দুদিন ছুটিসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশের বিভিন্ন ওষুধ কারখানায়ও গত ৩১ আগস্ট থেকে শ্রমিক বিক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে স্কয়ার, বেক্সিমকো ও ইনসেপ্টার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, হাজিরা বোনাস ও ঈদের ছুটি বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ৬টি অঞ্চলের কারখানার শ্রমিকেরা গতকাল সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
এদিকে আজ সকালে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ছাঁটাই হওয়া একদল শ্রমিক।


