শ্বেতপত্র ও টাস্কফোর্স অর্থনীতি সংস্কারে আগ্রহ কম

অর্থনীতি নিয়ে সংস্কারের দুটি প্রতিবেদন জমা পড়ে আছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশ বাস্তবায়নে জোরালো কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে অর্থনীতিতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অর্থনীতিতে দুর্নীতি – অনিয়ম এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলাদা দুটি প্রতিবেদন তৈরি করিয়েছে বর্তমান অন্তর্বতী সরকার। একটি হলো বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন কমিটির তৈরি শ্বেতপত্র। অন্যটি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন।

শ্বেতপত্র জমা পড়ে ১ ডিসেম্বর। টাস্কফোর্স প্রতিবেদন জমা দেয় ৩০ জানুয়ারি। এর মধ্যে দুই প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় কমিটির সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তিন মাস কাজ করে শ্বেতপত্র কমিটি ৩৯৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাট, অর্থ পাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অনিয়ম উঠে এসেছে। পাশাপাশি অর্থনীতির সংস্কারে সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে- এখন আলোচনায় সামনে চলে এসেছে নির্বাচন। তাই সরকারের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়ে গেছে। সংস্কারের জন্য যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই সুযোগ নেওয়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনীতির সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন।

অর্থনৈতিক কৌশল পুনঃনির্ধারণ টাস্কফোর্সের ৫২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক বিষয়ে নানা ধরনের সুপারিশ করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রগতিশীল করব্যবস্থা চালু, যেখানে ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করা হবে। টাস্কফোর্স শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং সেবা সহজলভ্য করার ওপর জোর দিতে বলেছে। প্রতিবেদনটি নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আলোচনা হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিবেদনে থাকা সুপারিশগুলো থেকে একটি সুপারিশ বাছাই করে অন্তর্বতী সরকারের আমলেই তা বাস্তবায়ন করবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়। কিন্তু এক মাসে এর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। কেন উদ্যোগ নিতে পারছে না সরকারড়এ প্রসঙ্গে শ্বেতপত্র প্রণয়ন ও টাস্কফোর্স উভয় কমিটির সদস্য সেলিম রায়হান বলেন, আমলাতন্ত্রের সহযোগিতা নেই। উপদেষ্টাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় সংস্কার নেই। সংস্কারের সঠিক সময় পার হয়ে যাচ্ছে। সবাই নির্বাচনমুখী কথা বলছেন


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন