গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন জায়গায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুশোরও বেশি মামলা হয়েছে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সাথে ভারত ও থাইল্যান্ডের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে বিচার করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর আদালত যদি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তখনই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ। কিন্তু চুক্তিতে বলা হয়েছে, অপরাধটি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ হলে যে কোনো দেশ প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তবে হত্যা, আক্রমণ, বিস্ফোরণ, জীবন বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক পদার্থ বা অস্ত্র তৈরি বা রাখাসহ বেশ কিছু অপরাধকে রাজনৈতিক বলার সুযোগ নেই। ফলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও, বাংলাদেশ চাইলেই যে তাকে ফেরত পাবে এমন সম্ভাবনা দেখছেন না কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘বর্তমান ভারত সরকারের সাথে শেখ হাসিনার যে সম্পর্ক রয়েছে সেদিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশের ফেরত চাওয়া খুব বেশি কাজে নাও আসতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী যদি আদালত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেও তাকে ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দরকার হতে পারে।’


